রাজধানীতে প্রকৌশলীকে গুলি করে হত্যা সন্দেহের তীর এক চিকিত্সকের দিকে

17

rajdhani killরাজধানীর গ্রীন রোডে ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে কাজী সাদবীন হোসেন সানি (২৫) নামে এক বস্ত্র প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন। তিনি সাভার নাভারন টেক্সটাইলের প্রকৌশলী ছিলেন। সোমবার রাত পৌনে ১ টার দিকে সড়কের একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ দাবি করেছে, চাঁদা দাবির ঘটনায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সানির পরিবার মামলা করায় ওইপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। নিহতের খালু ডা. শহীদুল আলম খানের সঙ্গে ডা. মো. জাহাঙ্গীর নাজিম নামের ওই ব্যক্তির বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্বজনরা ধারণা করছেন। এ ঘটনায় ডা. শহীদুল আলম খান বাদি হয়ে ডা. জাহাঙ্গীর নাজিমসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সানির বাবা কাজী শওকত হোসেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

নিহতের খালাতো ভাই মাহমুদ উর রহমান রনি জানান, গ্রীন রোডের ৯৮ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন সানি। তিনি সম্প্রতি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাস করার পর সাভারের নাভারন টেক্সটাইলে বস্ত্র প্রকৌশলী হিসাবে যোগ দেন। তার খালু ডা. শহীদুল আলম খানের বাসা ধানমন্ডির ৭/এ নম্বর সড়কের ৬২/বি নম্বর ভবনে। সোমবার রাতে ডা. নাজিম ও তার লোকজন ঐ বাসায় গিয়ে তাকে হুমকি দেয়। এ খবর পেয়ে সানি তার খালুর বাসায় যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি গ্রীন রোডের ল্যাবএইড হাসপাতালের পাশে ২/বি নম্বর ভবনের সামনের রাস্তায় একটি চায়ের দোকানে থামেন। তার মোটর সাইকেলটি পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি চা পান করছিলেন। এ সময় সেখানে রূপালী রঙের একটি প্রাইভেট কার থামে। গাড়ি থেকে দুই যুবক নেমে আসে। এক যুবক কাছ থেকে সানির বুকের বাম পাশে গুলি করে। তিনি বুক চেপে ধরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রক্তক্ষরণের কারণে বেশিদূর এগুতে পারেননি। ফুটপাতের ওপরেই লুটিয়ে পড়েন। এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাশের ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাবাগান থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল জানান, হত্যায় অভিযুক্ত ডা. মো. জাহাঙ্গীর নাজিম বেইলি রোড স্কয়ার এলাকার ১/১৯ নম্বর বাসায় থাকেন। তাকেসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের খালু। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ডা. নাজিম অনেকদিন ধরেই তাকে চাঁদার দাবিতে হুমকি দিচ্ছেন। এসব ঘটনায় তিনি ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ধানমন্ডি থানায় তিনটি মামলা করেছেন। সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে ডা. নাজিম ফের হুমকি দিতে শুরু করেন। সোমবার রাত ১২টার দিকে তিনি রূপালী রঙের একটি গাড়িতে তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ডা. শহীদুলের বাসায় যান। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে শহীদুল বিষয়টি ধানমন্ডি থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ডা. নাজিম ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। এ সময় সানি সেখানে গিয়ে পৌঁছান।

ডা. শহীদুল দাবি করেন, বিরোধের জের ধরে ডা. নাজিম ও তার সহযোগীরাই সানিকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, ওই যুবকেরা প্রথমে তার মোটরসাইকলের চাবি চায়। সানি চাবি না দেয়ায় তাকে গুলি করা হয়। তবে মোটরসাইকেলটি তারা নিয়ে যায়নি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে সানির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ঢাকার দোহারের পাঞ্জি প্রহরী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাদ আছর সানিকে দাফন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here