রাইফেল ছিনতাই ব্যালটে আগুন

12

truckদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগের দিন অস্ত্র লুট, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র, ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

আজ শনিবার নির্বাচনের ব্যালটবাক্স, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সামগ্রী সাতকানিয়ায় জামায়াত শিবির কর্মীরা মালামালবাহী গাড়ীতে হামলা করে। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার চারটি ভোট কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রী এবং ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে আজ নির্বাচনের ব্যালটবাক্স, ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচন সামগ্রী পৌঁছার পর জামায়াত শিবির-কর্মীরা মালামালবাহী গাড়ীতে হামলা করে। আজ শনিবার বিকাল ৪টার সময় উপজেলার ছদাহা ফকিরহাট এলাকায় মোহাম্মদীয়া খায়রিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে মালামাল নিয়ে ঢুকার সাথে সাথে চারদিক থেকে ৭০/৮০জন জামায়াত শিবির কর্মী লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা করে। এ সময় অনেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এসআই এনামুল ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলামসহ ৩ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় শরীফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা এক আনসার সদস্যের রাইফেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। একই সময়ে তারা হামলা চালায়, ছদাহা আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা কেন্দ্রের মালামালবাহী গাড়ীতে। হামলার জামায়াত শিবির কর্মীরা ব্যালটবক্স ও ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে একইভাবে হামলা হয় দক্ষিণ চরতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মালবাহী গাড়ীতে ও এঁওচিয়া চূড়ামনি সিকদার বাড়ি এলাকা কেন্দ্রের মালবাহী গাড়ীতে। এখানেও নির্বাচনী মালামাল পুড়ে দেয় তারা। এছাড়া দক্ষিণ ঢেমশা বোর্ড অফিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও আলমগীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা করে জামায়াত শিবির কর্মীরা ব্যাপক ভাংচুর চালায়।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার চারটি ভোট কেন্দ্রে আজ শনিবার হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ যাবতীয় নির্বাচনী সামগ্রী এবং ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা।

ভোট কেন্দ্র গুলো হল, উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের কুঞ্জমহিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইদিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে একজন পুলিশ সদস্য, ৭/৮ জন আনসার সদস্যসহ নির্বাচনে নিয়োজিত কমকর্তারা উপজেলা পরিষদ থেকে ভটভটিতে (শ্যালো ইঞ্জিল চালিত স্থানীয় যানবাহন) কুঞ্জমহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। প্রিজাইডিং অফিসার সাদুল্লাপুর গার্লস কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকুল আলমের নেতৃত্বে তাদের সাথে ছিল ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ অন্যান্য নির্বচনী সামগ্রী। পথে সাদুল্লাপুর-ঠুঠিয়াপুকুর সড়কে জামায়াত শিবিরের ৩০/ ৪০ নেতাকর্মী তাদের মারপিট করে। পরে তারা ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ যাবতীয় সরঞ্জাম আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তারা ওই পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেয়। এরপর বিকাল সাড়ে চারটারদিকে তাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য বুথ বানানোর সময় ১৮ দলের ৩০০/ ৪০০ জন নেতাকর্মী হামলা চালিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার সাদুল্লাপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাবদার রহমানসহ সকলকে পিস্তলের মুখে জিম্মি করে। পরে ব্যালট পেপার ও বাক্সসহ ভোটের যাবতীয় সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। যাবার সময় জামায়াত শিবির ক্যাডাররা অগ্নিসংযোগ করে ভোট কেন্দ্রে। এর কিছুক্ষণ পর একই রকম ঘটনা ঘটে ওই ইউনিয়নের ইদিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিন্ধান্ত জানানোর পর ওই চার কেন্দ্রের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টেংরা-বাদিয়াখালী সড়ক কেটে ৩টি ভোট কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে দিয়েছে ১৮ দলের অবরোধকারীরা। কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টেংরা-বাদিয়াখালী সড়কের কেশবপুর ব্রিজের পাশে সড়ক কেটে ফেলায় ভোট কেন্দ্র গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো, সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গনকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাশিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here