রফিউর রাব্বীকে গুম করে ফাঁসানোর আশঙ্কা শামীম ওসমানের

13

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে কোন কিছু ঘটলেই প্রকৃত বিষয় খতিয়ে না দেখে একটা মহল ও দু-একটি গণমাধ্যম আমাদের পরিবারের দিকে অঙ্গুলি হেলন করে মিথ্যাচার করে। তাতে আমরা শঙ্কিত যে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। সেক্ষেত্রে আগামী ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনের আগেও রফিউর রাব্বীকে গুম করে দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করে শামীম ওসমান রফিউর রাব্বীকে যথাযথ নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানান। আজ শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন শামীম ওসমান।

শামীম ওসমান বলেন, যে ব্যক্তি (রাব্বী) প্রায় ২০ কোটি টাকার খেলাপী ঋণে জর্জরিত সেই ব্যক্তি কার ভরসায় নির্বাচন করতে চাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখা উচিত। নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের ঘটনা থেকে মানুষ ও মিডিয়ার দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে আরো বড় অঘটন ঘটনানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এই বিষয়ে আমি সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতা চাই।

অপর দিকে, র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে সাত খুনের মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। র‌্যাবের সদ্য সাবেক তিন কর্মকর্তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে নতুন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

শামীম ওসমান বলেন, যে গোয়েন্দা সংস্থা একটি জাতীয় পত্রিকাকে নূর হোসেনের সাথে আমার কথোপকথনের সিডি দিয়েছে তারা বিশেষ উদ্দেশ্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সেটা করেছে। তিনি কথপোকথনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ২৯ এপ্রিল তার সাথে (নূর হোসেন) একবার নয় সাতবার কথা বলেছি। অনেকেই আমাকে অচেনা নাম্বার থেকে ফোন করে সেও একটি অচেনা নাম্বার থেকে ফোন করলে তাকে আমি বলি যদি নির্দোষ হও তাহলে আদালতে আত্মসমর্পন করো। কিন্তু আমার কথোপকথনের বিষয়টি পুরোটা প্রকাশ না করে আংশিক প্রকাশ করায় প্রকৃত বিষয়টি মানুষ জানতে পারেনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যাকান্ডের ব্যাপারে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য এখন পুলিশের হাতে। হত্যার মোটিভ, কিলিং স্পট, অপহরণকারীদের কৌশল ও খুনের পর অপহরণের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের কথোপকথনের রেকর্ড তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নজরুলসহ সাতজনকে নারায়ণগঞ্জে হত্যা করা হয় বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। অপহরণকারীদের কাছে নজরুল ও চন্দন সরকারের গাড়ি ছাড়াও তাদের নিজেদের তিনটি গাড়ি ছিল। নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণের পর দীর্ঘ সময় বাঁচিয়ে রাখা অপহরণকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল। তাই তাদের সাতজনকেই দ্রুত হত্যা করা হয়। এ ছাড়া অপহরণের পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়।

ঘটনার দিন (২৭ এপ্রিল) নজরুলের প্রাইভেটকার গাজীপুরের শালবন থেকে উদ্ধার করা হয়। চন্দন সরকারের প্রাইভেটকার রাজধানীর নিকেতন এলাকাথেকে ৩ মে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত দু’জনের গাড়ি পৃথক দুটি স্থানে ফেলে দেয়াও অপহরণকারীদের কৌশলের একটি অংশ ছিল।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের একটি জায়গায় সাতজনকে হত্যা করা হয়। এত দিন পর্যন্ত বলা হয়েছিল, অপহরণের টার্গেট ছিলেন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। তবে তদন্তের এ পর্যায়ে এসে জানা গেছে, নজরুল ছাড়া আরও একজন খুনের তালিকায় ছিলেন। তিনি হলেন নজরুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান স্বপন। চন্দন সরকারসহ অন্য পাঁচজন ঘটনার শিকার হয়েছেন। দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, যে কোনো মুহূর্তে সাত খুনের ঘটনার তদন্তে আরও নতুন চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাতহত্যার প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেনের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়।

সাত খুনের ঘটনা নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো কথা বলছেন না। আইনজীবী চন্দন সরকারসহ অন্য পাঁচজন ঘটনার শিকার হয়েছেন। কোনো সাক্ষী না রাখতেই নজরুলের সঙ্গে তাদেরও হত্যা করা হয়।

বর্তমানে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইনের পৃথক কে নিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের ১২ সদস্যের একটি বিশেষ টিম। রিমান্ডে সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তার তথ্যে কিছুটা গরমিল পাওয়া গেছে। তারেক রিমান্ডে বলেছেন, সাত খুনের সঙ্গে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here