যোগাযোগ হচ্ছে না সরকারের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে বিপাকে বিএনপি

16

logo BNPগণভবনে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ তাৎক্ষণিক রক্ষা না করে কিছুটা বিপাকে পড়েছে বিএনপি। বিএনপি মনে করছে, এখন সংলাপ যদি না হয় তাহলে তার দায় তাদের দিকেই আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সংলাপ আয়োজনে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা গত দুই দিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় সংলাপে সমঝোতার জন্য বিএনপি কূটনীতিকদের দিকেও তাকিয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সংলাপ হলে বা না হলে দল ও জোটের পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা ঠিক করতে দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার হরতাল শেষে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে বসবেন খালেদা জিয়া।
বিএনপির কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে বিরোধীদলীয় নেতা দিনক্ষণ ঠিক করতে প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দেবেন। তবে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির নেতারা যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁরা সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনকি টেলিফোনেও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তাঁরা।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত দুই দিন সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেছেন, ফোন করার বিষয়টি সঠিক নয়।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সংলাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য তাদের দলের নেতারা কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দুই পক্ষই যেন ছাড় দিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, এটাই তাদের লক্ষ্য। কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বিএনপির এমন দুজন নেতা গত দুই দিনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষা না করায় যেন সংলাপের সম্ভাবনা শেষ হয়ে না যায়, সেটা নিয়েই তাঁরা কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা বলছেন।

সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা সফল না হলেও বিএনপি সংলাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে ফোন করে ২৮ অক্টোবর গণভবনে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু নিজের ডাকা হরতালের কারণে ২৯ তারিখের আগে গণভবনে যাওয়ার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও খালেদা জিয়া হরতাল ঘোষণার আগে বলেছিলেন, ২৬ অক্টোবরের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ না নিলে ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর হরতাল হবে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কারণে সংলাপ না হলে এর দায় সরকারের ওপর চাপানোর উপায় খুঁজছে দলটি। ২৮ অক্টোবর খালেদা জিয়া গণভবনে যেতে না চাওয়ায় সংলাপের পথ রুদ্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিএনপির কোনো কোনো নেতা এখন বলতে চাইছেন, প্রধানমন্ত্রী নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেছেন, সংলাপ বা আলোচনার জন্য নয়।

মির্জা ফখরুল গতকাল সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ মঙ্গলবার জোটের হরতাল শেষে সংলাপের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা না হলে বুঝতে হবে সরকার সংলাপ চায় না।

সংলাপের জন্য বিএনপির তরফ থেকে যোগাযোগ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘কে যোগাযোগ করবে, সেটি মুখ্য নয়।’ তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই সংলাপ নিয়ে আশাবাদী।

আজ বৈঠক: আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দেওয়ার আগে বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল ৩ নভেম্বর থেকে টানা আন্দোলনে যাওয়ার। ওই দিন থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালনেরও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল দলটির। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে আজ আলোচনায় বসছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, সময় কম থাকায় আন্দোলন ও সংলাপ পাশাপাশি চালানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আছে। সংলাপে সংকট নিরসনের পথ খোলা রেখেই বিএনপি কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here