যে ১৪৭ আসনে নির্বাচন হচ্ছে

11

newজাতীয় সংসদের তিনশ’ আসনের মধ্যে এবার ১৪৭ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাকি ১৫৩ আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ওই সব আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে না। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯ জেলায় ভোট হবে। ভোট হচ্ছে না চাঁদপুর, রাজবাড়ী, জয়পুরহাট, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলায়। এই জেলাগুলোর সব আসনেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে মোট নয় কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন চার কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮ হাজার ২০৮টি।

প্রার্থী ও দল:নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩৯০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ১২০ জন, জাতীয় পার্টি-জাপা’র ৬৫ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি’র ২৭ জন, জাসদের ২১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির ১৬ জন, বিএনএফ এর ২২ জন, গণতন্ত্রী পার্টির একজন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ছয়জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তিনজন, গণফ্রন্টের একজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের একজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুইজন। এছাড়া ১০৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

১৫ জেলায় একটি আসনে নির্বাচন:

১৫ জেলায় একটি আসনে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে আছে সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, কক্সবাজার।

১০ জেলায় সব আসনে নির্বাচন:

নির্বাচনে ১০ জেলার সবগুলো আসনে ভোট হচ্ছে। এই জেলাগুলো হলো গোপালগঞ্জ, পঞ্চগড়, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, বরগুনা, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান।

আংশিক ভোট হবে যেখানে:

রাজধানী ঢাকাসহ যেসব জেলায় আংশিক ভোট হবে সেগুলো হচ্ছে লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, সাতক্ষীরা, ভোলা, টাঙ্গাইল, শেরপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, লক্ষ্মীপুর।

নির্বাচন হচ্ছে ১৪৭ আসনে:

যেসব আসনে নির্বাচন হচ্ছে তা হলো পঞ্চগড়-১, পঞ্চগড়-২, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, দিনাজপুর-১, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৪, দিনাজপুর-৫, দিনাজপুর-৬, নীলফামারী-১, নীলফামারী-৩, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-৩, রংপুর-৪, রংপুর-৬, কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-৪, গাইবান্ধা-১, গাইবান্ধা-২, গাইবান্ধা-৩, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৪, বগুড়া-৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নওগাঁ-৩, নওগাঁ-৪, নওগাঁ-৫, রাজশাহী-৩, রাজশাহী-৬, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-৫, পাবনা-১, পাবনা-৩, মেহেরপুর-১, মেহেরপুর-২, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, কুষ্টিয়া-৪, চুয়াডাঙ্গা-১, চুয়াডাঙ্গা-২, ঝিনাইদহ-১, ঝিনাইদহ-২, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, যশোর-৪, যশোর-৫, যশোর-৬, মাগুরা-১, মাগুরা-২, নড়াইল-২, বাগেরহাট-৪, খুলনা-১, খুলনা-২, খুলনা-৩, সাতক্ষীরা-১, সাতক্ষীরা-২, বরগুনা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-১, পটুয়াখালী-৩, ভোলা-২, ভোলা-৩, বরিশাল-২, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪, ঝালকাঠী-১, পিরোজপুর-৩, টাঙ্গাইল-২, টাঙ্গাইল-৫, টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-১, জামালপুর-২, জামালপুর-৪, জামালপুর-৫, শেরপুর-১, শেরপুর-২, শেরপুর-৩, ময়মনসিংহ-৩, ময়মনসিংহ-৬, ময়মনসিংহ-৭, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোনা-১, নেত্রকোনা-২, নেত্রকোনা-৩, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-২, ঢাকা-১, ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৮, গাজীপুর-৪, নরসিংদী-১, নরসিংদী-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-১, ফরিদপুর-৪, গোপালগঞ্জ-১, গোপালগঞ্জ-২, গোপালগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-১, সুনামগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-৫, সিলেট-২, সিলেট-৪, মৌলভীবাজার-১, মৌলভীবাজার-২, হবিগঞ্জ-২, হবিগঞ্জ-৩, হবিগঞ্জ-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-৩, কুমিল্লা-৪, কুমিল্লা-৫, কুমিল্লা-৬, কুমিল্লা-৮, কুমিল্লা-৯, ফেনী-৩, নোয়াখালী-৬, লক্ষ্মীপুর-১, লক্ষ্মীপুর-৪, চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩, চট্টগ্রাম-১৫, চট্টগ্রাম-১৬, কক্সবাজার-৪, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান।

নির্বাচন হচ্ছে না ১৫৩ আসনে:

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ দিনে ১৫৪ আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। ফলে স্ব স্ব আসনের রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এর মধ্যে হাইকোর্ট কুমিল্লা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এএসএম কামরুল ইসলামের প্রার্থিতাকে বৈধ বলে ঘোষণা করে। ফলে ইসি ওই আসনে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এখন ১৫৩ আসনে ভোট হচ্ছে না। এই আসনগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ১২৭, জাতীয় পার্টি (জাপা) ২০, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টি-জাসদ তিন, ওয়ার্কার্স পার্টি দুই এবং জাতীয় পার্টি-জেপি প্রার্থীরা একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। ফলে এসব আসনে আর নির্বাচন লাগছে না।

সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে:

সবচেয়ে বেশি সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া-২ আসনে। রাঙ্গামাটিতে রয়েছে ছয়জন প্রার্থী। এছাড়া পাঁচজন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা-১, গাইবান্ধা-৫ আসনে। আর চারজন করে প্রার্থী রয়েছেন, নওগাঁ-৪, সিরাজগঞ্জ-৫, পাবনা-১, কুষ্টিয়া-৪, বাগেরহাট-৪, সাতক্ষীরা-২, টাঙ্গাইল-৫, শেরপুর-৩, নেত্রকোনা-১, ঢাকা-৫, লক্ষ্মীপুর-৪, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৯ ও বান্দরবান আসনে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর বর্তমান কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষােশষে ২৫ নভেম্বর দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এতে পাঁচ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। দুই ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর তা যাচাই-বাছাইয়ের দিন ধার্য করা হয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৩ ডিসেম্বর। ১৪ ডিসেম্বর সব প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয় রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক)। ১৫ ডিসেম্বর থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়ে চলে তিন ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here