যেভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হলো জেএমবির জঙ্গিদের…

22

vanঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ রোববার সকালে প্রকাশ্যে একেবারে ফিল্মি কায়দার নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।গুলি ও বোমা মেরে প্রিজনভ্যানে থাকা পুলিশকে হতাহত করে দুর্ধর্ষ এই ঘটনা ঘটানো হয়।এতে আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্য আতিক ও এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আমীরাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহজাহান সংবাদিকদের  বলেন, ‘সকাল সোয়া ১০টার দিকে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ত্রিশালের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। তখন তাকিয়ে দেখি একটি পুলিশের গাড়িকে সামনে ও পেছন দিয়ে ঘিরে ফেলেছে দুটি গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে ১০-১৫ জন কালো মুখোশধারী লোক পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। আমি ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদারকে জানাই। তিনি (ওসি) আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি কাছে যাওয়ার আগেই পুলিশকে গুলি করে তিনজন আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় মুখোশধারীরা। সামনের গাড়িটি সাদা রং ও পেছনের গাড়ি কালো রঙের। আসামিদের নিয়ে গাড়ি দুটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা উত্তরের দিকে চলে যায়। আহত পুলিশদের আমি একটি গাড়িতে তুলে দিই। আসামিরা দুটি বোমা ও অসংখ্য গুলি করে। পুলিশ সদস্যদের দুটি বন্দুক আমি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে আসি।’

পুলিশের গাড়িটির চালক সবুজ মিয়া বলেন, ‘প্রথমে আমার গাড়িটির সামনে একটি ট্রাক আটকে দেয়। ঠিক সে সময় একটি সাদা মাইক্রো সামনে এসে গুলি শুরু করে। আমি গাড়িতে নুয়ে যাই এবং তারা গুলি করে ও বোমা ফাটিয়ে আসামিদের নিয়ে যায়। চোখের পলকে তারা এ ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায়।’

স্থানীয় কৃষক আবদুল হক বলেন, ‘কয়েকটি বিকট শব্দ শুনলাম। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখি এ ঘটনা ঘটেছে। আমি ভেবেছিলাম গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। কিন্তু গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে তো বারবার শব্দ হবে না।’

জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। তবে কোথায় হচ্ছে তা বুঝতে পারিনি। পরে দেখি এ ঘটনা ঘটেছে।’

বেলা পৌনে ১১টার দিকে আমাদের ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঘটনাস্থল সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখন, পুলিশের দুটি বন্দুক পড়ে আছে। একটি বন্দুক ভাঙা। টাঁকশালের টাকা নেওয়ার একটি খালি বাক্স পড়ে আছে। প্রিজনভ্যানটির সামনের কাচে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পেছনের দরজায় পুলিশের রক্তমাখা টুপি। আসামি ছিনতাইয়ের সময় যে তালাটি ভাঙা হয়, সেটি পড়ে আছে। পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মইনুল হক। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।’ তবে তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে সখীপুর থানার পুলিশ মাইক্রোবাসসহ আটক করেছে।

জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ রোববার সকালে প্রকাশ্যে প্রিজন ভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে জেএমবির তিন আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে চার সদস্যের এই কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা রেঞ্জর ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক, ডিআইজি (প্রিজন) টিপু সুলতান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপসচিব (জেল-১) সালমা বেগম।

ওই ঘটনায় গুলিতে পুলিশের এক সদস্য নিহত হন। এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) আহত হন প্রিজন ভ্যানে থাকা পুলিশের তিনজন সদস্য। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ছিনিয়ে নেওয়া তিন আসামিই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে যুক্ত। জেএমবির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই তিন আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here