যেই মুহূর্তে তফসিল, সেই মুহূর্তে দেশ অচল: ফখরুল

15

528f43ae70278-Fakhrulনির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে দেশ অচল করার হুমকি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮-দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই হুমকি দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে জেনেছি আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা ছাড়া যেই মুহূর্তে তফসিল ঘোষণা করা হবে, সেই মুহূর্তে দেশ অচল করে দেওয়া হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার আবার ক্ষমতায় এলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে তারা গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছে। আমরা প্রকাশ্যে মিছিল ও সমাবেশ করতে পারছি না। ঢাকা শহরে মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা পল্টন ময়দান, মুক্তাঙ্গন এবং নয়াপল্টনে মিছিল সমাবেশ করতে পারছি না। নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’

ঢাকাবাসীকে উদ্দেশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘জেগে উঠুন ঢাকাবাসী। রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। এই সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। আমাদের বিকল্প পথ খোলা নেই।’

রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আগামী রোববার সারা দেশে জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠনের প্রতিবাদে ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ।

এর আগে বেলা দুইটায় এ সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় বেলা তিনটায়। এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে জোটের অনেক নেতা-কর্মী সমাবেশে যোগ দেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপিসহ জোটের আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, সবাইকে কারাগারে নিলেও আন্দোলন দমন করা যাবে না। সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংবিধান লঙ্ঘন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারই এখন সবার দাবি। শুধু বিরোধী দল কেন, সারা দেশের মানুষ এই অবৈধ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের ভেতরেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য দেন আবদুল মঈন খান, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম, রেদোয়ান আহম্মেদ, বরকত উল্লা বুলু, শিরীন সুলতানা, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, শফিকুল ইসলাম, মহিউদ্দিন একরাম প্রমুখ।

রাজধানীর বাইরে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়েও একই কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী জোট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here