যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মা বো্নদের সহায়তা চাইলেনঃ প্রধানমন্ত্রী

18

image_1472_182021বাসস :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের চিরকাল ঘৃণা এবং নারীর অগ্রগতি ও মুক্তির পথে বাধা সৃষ্টিকারী অপশক্তির তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেশের নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নারীর প্রতি পাশবিক আচরণের জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের সবসময় ঘৃণা করতে হবে। তিনি গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক-২০১৩ প্রদানকালে এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া সামাজিক বৈষম্যের নিগঢ় থেকে নারী সমাজকে মুক্ত করার অসাধ্য সাধন করছেন। এই মহিয়সী নারীর জন্ম না হলে সমাজে আজ আমরা এত সুযোগ পেতাম না।’ দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে নারীর অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সমাজের ব্যাপক ত্যাগের বিনিময়ে অনেক জাতীয় অর্জন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন স্বাধীন। তবে একথা মনে রাখতে হবে যে স্বাধীনতার জন্য আমাদের মা-বোনদের দখলদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দালালদের হাতে নির্মমভাবে নিগৃহিত হতে হয়েছিল। এজন্য ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও ঘরবাড়ি ধ্বংসকারী দখলদার বাহিনীর হাতে যারা আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছিল সেই যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের চিরকাল ঘৃণা করতে হবে।’
সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর ঝর্না ধারা চৌধুরী ও প্রফেসর হামিদা বানুকে রোকেয়া পদক-২০১৩ দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদে শিশু ও নারী বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর হামিদা বানু ও শিশু ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তরিকুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্নে সকলের বিশেষ করে নারী সমাজের সহায়তা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঊণবিংশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা সত্ত্বেও বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী শিক্ষা ও নারী স্বাধীনতার অগ্রদূত। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার বহু লেখনী এবং সুদীর্ঘকাল আগে নারী শিক্ষা ও উন্নয়নে তার উপলব্ধির মাত্রা দেখে আমরা বিস্মিত হই। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নেতৃত্বের শীর্ষে নারীদের কথা বিবেচনা করায় তার চিন্তার গভীরতা কতোটা ছিল তা বুঝা যায়। নারী উন্নয়নে তাঁর সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের সকল স্তরে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেগম রোকেয়ার বহু স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়া একটি রক্ষণশীল সমাজের সকল বাধা-বিপত্তি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন এবং তিনি উপলব্ধি করেছেন কেবল শিক্ষাই নারীদের আত্মমর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়া বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল কর্মকা ে নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়নের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব বয়। তিনি দেশের নারী সমাজের উন্নয়ন এবং তাদের সমঅধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রচেষ্টার সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, বেগম রোকেয়ার চিন্তা-চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার সকল জাতীয় কর্মকা ে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বিভিন্ন নারী উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়ার শিক্ষা ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সরকার নারীর কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের দক্ষতা এবং তাদের চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং শ্রমবাজারে তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারীর বিরুদ্ধে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ ও ডোমেস্টিক ভায়েলেন্স (প্রিভেন্সন ও প্রটেকশন) এ্যাক্ট ২০১০ পাস করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের অধিক উপস্থিতি এ সরকারের একটি অনন্য অর্জন। তিনি বলেন, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের আওতায় ময়মনসিংহে পরিচালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ঢাকায় পরিচালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া নারী শ্রমিক হাসপাতাল। এগুলো এই মহিয়সী নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অগ্রগতির ফলে ২০১০ সালে এমডিজি পুরস্কার অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৮টি উন্নয়ন লক্ষমাত্রার ৬টিই নারী ও শিশু উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রভার্টি রিডাকশান স্ট্রেটেজি পেপার (পিআরএমপি) এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরিদ্র নারীদের ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’, ডিজিডি, আশ্রায়ন কর্মসূচির ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবং বৃদ্ধ, বিধবা ও দুগ্ধদায়ী মায়েদের দেয়া হচ্ছে ভাতা। শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বলেন, তাঁর সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীর প্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশ্বে এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here