যুক্তরাজ্যে হাউজ অব কমন্সে বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্কঃ অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি রাজনীতিকরা

17

image_101616বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। এ কারণে প্রতিবারই বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে।

আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউজ অব কমন্সের নিয়মিত অধিবেশনে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর নির্ধারিত আলোচনায় ব্রিটিশ এমপিরা এসব কথা বলেন।

প্রায় ১৭ জন এমপি এ আলোচনায় অংশ নেন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে এগারটা থেকে প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী চলে বিতর্ক।

সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কয়েকজন এমপি বলেন, বাংলাদেশের সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধানে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশকে দেয়া ব্রিটেনের বৈদেশিক সাহায্য অব্যাহত রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেন কেউ কেউ।

ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে নানা অবিযোগ এবং প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, দেশের স্বার্থে তাদের একটি অবাধ এবং গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত। তারা বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ।

বিতর্কের সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশ বিষয়ক ব্রিটিশ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুফের চেয়ার এন মেইন এমপি বলেন, ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের ডাক দেয়। ফলে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সামরিক বাহীনি ক্ষমতা নেয়। দীর্ঘ দুই বছর প্রধান দুটি দলের নেতাদের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন বা দেশের বাইরে নির্বাসনে কাটাতে হয়। কিন্তু মনে হচ্ছে তারা সেই দুরাবস্থা থেকে কোনো শিক্ষাই নেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কে কেন্দ্র করেও সেই একই পরিস্থিতি বিরাজমান।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এন মেইন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে টেকসই করনে ব্রিটিশ সরকারের দেয়া আর্থিক সাহায্য কোনো কাজে আসেনি।

একটি আবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকারের বার বার সংলাপের অনরোধে কর্ণপাত না করাকে তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলোপ বর্তমান সংঘাতের অন্যতম কারণ কিনা কনজারভেটিব দলীয় এমপি রেহমান চিশতির এমন প্রশ্নের জবাবে এন মেইন এমপি বলেন, তত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন বিরোধী দল তত্বাবধায় সরাকার নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তিনি গত সেপ্টেম্বরে তার বাংলাদেশ সফরের প্রসংঘ টেনে বলেন, সেই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেছেন, বাংলাদেশে রক্তপাত এবং প্রাণহানি ছাড়া কোনো নির্বাচন হয় না। ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশের সকল নির্বাচন শেখ হাসিনার কথার সত্যতা প্রমাণ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ পর্যায়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে এন মেইনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন লেবার দলীয় এমপি জেরেমি করবি। জবাবে এন মেইন এমপি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। আলোচনার এ পর্বে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচার বহিঃভুত হত্যাকান্ড, রাজনৈতিক নেতাদের গুম, হত্যা নির্যাতনের প্রসঙ্গ আসে। এমপি রিচার্ড ফুলহ্যাম ইলিয়াছ আলীর কোনো হদিস না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব গুম এবং হত্যার সাথে যারাই জড়িত থাকুক সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার এক্ষেত্রে চরমভাবে ব্যর্থ।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত একমাত্র ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী বাংলাদেশকে নিজের প্রিয় জন্মভুমি হিশেবে উল্লেখ করে চলমান সহিংসতা এবং প্রাণহানির ঘটনার চরম হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনকেকে কেন্দ্র করে বারবার সৃষ্ট রাজনৈতিক সংঘাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর অগ্রহণযোগ্র্য আচরনের ফলে একটি সম্ভাবনাময় দেশ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাক্তি এবং দলীয় স্বার্থের উধ্বে উঠে দেশ এবং জনগণের কল্যানে কাজ করার আহ্বান জানান। ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ এবং দেশে তাদের আত্মীয়-স্বজনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here