মোবাইল ফোনে বান্ধবী, অতপর অপহরণ !

59

opohoronব্যাংক কর্মকর্তা আবুল খায়ের অলোক (২৭)। তার মোবাইলে একদিন হঠাত্ একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে লিজা নামের এক মেয়ে বলে আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই। পরদিন লিজার দেখা করতে গিয়ে অপহরনের শিকার হন অলোক। তার পরিবারের কাছে দাবি করা হয় ৫ লক্ষ টাকা। অবশেষে গতকাল শনিবার রাতে মিরপুরের প্রিয়াঙ্কা হাউজিং এর একটি বাড়ি থেকে র্যাব-৪ এর একটি টিম অপহূত অলোক উদ্ধার করে। একই সাথে আটক করে অপহরনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাত জনকে। তবে আটক করা সম্ভব হয় প্রতারক লিজাকে।

অপহূত আবুল খায়ের অলক জানায়, গত ১৯ ডিসেম্বর অচেনা একটি মোবাইল নাম্বার থেকে কল আসে। কলটি করে লিজা। লিজা অলকের সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় এবং ২১ ডিসেম্বর সকালে ধানমন্ডি থেকে মিরপুর-১ এ দেখা করতে বলে। পরে অলক দেখা করলে লিজা তাকে একটি বিদেশি চকলেট (নেশাদ্রব্য মেশানো) খেতে বলে। এ সময় লিজার সহযোগী রিয়াজ নামের আরেকজন ছিল। চকলেট খেয়ে অলক অচেতন হয়ে গেলে লিজা ও তার সহযোগীরা তাকে মিরপুর-১ এর প্রিয়াঙ্কা হাউজিং এর ২৪ নম্মর বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে অলকের বাড়িতে কল করে মুক্তিপণ দাবি করে এবং দেরি হলে অলককে মারধর করে তারা।

এদিকে গত শনিবার বিকালে অলোকের ভাই অপহরন ও মুক্তিপনের বিষটি র্যাব-৪ এর মোবাইলে ফোন করে জানায়। পরে এ সূত্র ধরে আবুল খায়ের অলককে উদ্ধার অভিযানে নামে র্যাব-৪ এর একটি দল। এ সময় অলকের মুক্তিপণ হিসেবে তার বড় ভাই জাকির কুমিল্লা থেকে মিরপুর-১০ এর এস.এ পরিবহণের (সিরিয়াল নং-৭৪২১৬৪) এ ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাঠায়। পরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮ টার সময় অপরাধচক্রের ৩ সদস্য এস.এ পরিবহন থেকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে র্যাব-৪ এর গোয়েন্দা দল কৌশলে তাদের ২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। অপর একজন রাজিব দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে অলোককে উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার মূল হোতা লিজা ও তার সাথে থাকা রিয়াজকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।

র্যাব-৪ এর এএসপি মোহাম্মদ কামরুল হাসান (মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর) জানান, মিরপুর-১ এর প্রিয়াঙ্কা হাউজিং এর ২৪ নম্বর বাড়ি থেকে এক অপহূত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহূত ব্যক্তির নাম মো: আবুল খায়ের অলক (২৭)। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে চাকুরি করেন। এ ঘটনায় অপহরণচক্রের মোট ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, মাসুদুর রহমান টিটো (২৪), দ্বীপু ইবনে খান (১৮), সাদ্দাম হোসেন (২০), আব্দল্লাহ আল মামুন (২৪), আরাফাত মুন্সী (২৩), সাজেদুল হক (২৩), ইমরান খান (২১)। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ২ টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ চক্রের অন্যদের গ্রেফতারের জন্য র্যাবের অভিযান অভ্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here