মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের রহস্য তিন দিনেও উদঘাটন হল না।

13

newতিন দিন কেটে গেছে। কিন্তু এখনও মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের রহস্য উদঘাটন হল না। সময় যত গড়াচ্ছে আশঙ্কার মেঘ ততই ঘনীভূত হচ্ছে। গতকাল সোমবারও তল্লাশি চালিয়ে বিমানের কোনও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া প্রশাসন। দশটি দেশের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমেছে। তবে চুরি যাওয়া পাসপোর্টধারী যে দুই ব্যক্তি ওই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন, তাদের পরিচয় সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের চেহারা এশিয়ানদের মতো নয়। এদিকে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ চীনের উইঘুর মুসলিমদেরও সন্দেহের তালিকায় রেখেছে। বিমানটি ছিনতাই হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দশটি দেশ অভিযানে অংশ নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘটনা তদন্তে এফবিআই’র একটি প্রতিণিধি দল পাঠিয়েছে। অভিযানে অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরও। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন’র।

মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, চোরাই পাসপোর্টধারী দুইজনের একজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। তার পরিচয় সম্পর্কে এতটুকুই বলা হয়েছে যেসে সে মালয়েশিয়ান নয়। কিন্তু বিমানটির ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। নিখোঁজ হবার কিছুক্ষন আগে বিমানটি হয়তো গতিপথ পরিবর্তন করেছিল, এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে দক্ষিণ চীন সাগরের যে জায়গাটিতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল তার আওতা বাড়িয়ে মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত সমপ্রসারিত করা হয়েছে। কিন্তু বিমানটি কি ধ্বংস হয়েছে না ছিনতাই বা অন্য কিছু হয়েছে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায় নি। বিমানটির কোন ধ্বংসাবশেষ এখনো পাওয়া যায়নি। ফ্লাইট রেকর্ডারেরও কোন খোঁজ মেলে নি। যদিও ভিয়েতনামের উপকূলে সাগরে কিছু বস্তু ভাসতে দেখা গেছে। কিন্তু কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো নিখোঁজ বিমানটিরই টুকরো কিনা তা নিশ্চিত করা যায় নি। সাগরে দুটি জায়গায় যে তেল ভাসতে দেখা গিয়েছিল সেটাও রাসায়নিক পরীক্ষার পর জানা গেছে যে তা কোন বিমান থেকে ছড়ায়নি। ফলে আসলে কি হয়েছে তা এখনো অজানা। মালয়েশিয়ার বিমানচলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আজহারুদ্দিন আল রহমান বলেছেন, ছিনতাইয়ের শিকার হওয়াসহ সব রকম সম্ভাবনাই তারা বিবেচনা করে দেখছেন। অন্যদিকে যাত্রীদের স্বজনদের চরম দুঃসংবাদের জন্য প্রস্তুত হতেও বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, আকাশপথ থেকে নজরদারি চালিয়েও কোনও কিছু মেলেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক। গতকাল নিখোঁজ এমএইচ৩৭০ বিমানের যাত্রীদের তালিকা প্রকাশ আবারো প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের মধ্যে চীনের ১৫৪ জন, ৩৮ জন মালয়েশীয়, ৭ ইন্দোনেশীয়, ৬ অস্ট্রেলীয়, ৫ ভারতীয়, ৪ আমেরিকান ও ২ কানাডীয় নাগরিক। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক বলেন, বিমান যাত্রায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের হাতে কোনও শক্ত প্রমাণ নেই নাশকতা নিয়ে। অনেক তথ্যই উঠে আসছে নিখোঁজের বিষয়ে। সব বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।

বিমানটির বেশির ভাগ যাত্রীই ছিল চীনা নাগরিক। তাই তিন দিন পরও বিমানটি উদ্ধার না হওয়ায় চীন উদ্ধার কাজ জোরদার করতে মালয়েশিয়াকে তাগিদ দিয়েছে। বিমানটির খোঁজে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যেকার দক্ষিণ চীন সাগরে অনুসন্ধান চলছে এবং তা এখন রীতিমত আন্তর্জাতিক চেহারা নিয়েছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ মোট ১০টি দেশ এতে ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরও এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। বিমানটির ব্ল্যাক বক্স থেকেও কোনরকম সংকেত পাওয়া যায় নি। মার্কিন সপ্তম নৌবহরের একজন কর্মকর্তা বলছেন, বিমানটি সাগরে ভেঙে পড়ে গিয়ে থাকলে ফ্লাইট রেকর্ডারটি পানিতে ভাসতে থাকার কথা এবং এ থেকে নির্গত সিগন্যাল রাডারে ধরা পড়ার কথা। তিনি বলেন, একটি ফুটবলের মতো বড় কিছু সাগরে ভাসতে থাকলেই তা রাডারে ধরা পড়বে।

বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সাথে সন্ত্রাসী কোন কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ আছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। কারণ বিমানটিতে এমন দু’জন যাত্রী ছিলেন যারা চুরি যাওয়া ইউরোপীয় পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। এরা দু’জনই একই সময় টিকিট কিনেছিল এবং বেইজিং থেকে অন্য একটি বিমানে করে তাদের আমস্টার্ডম এবং ইউরোপের অন্য কোন গন্তব্যে যাবার কথা ছিল। মালয়েশিয়ার গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এবং সন্ত্রাস-দমন কর্মকর্তারা বিমানটির যাত্রীদের পুরো তালিকাটি পরীক্ষা করে দেখছেন। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বিমানটি উধাও হওয়ার পেছনে চীনের সংখ্যালঘু ইউঘুর মুসলিম জঙ্গিদের হাত থাকার সন্দেহ করছে। মালয়েশিয়ার এক কর্মকর্তা এ আশঙ্কা নাকচ করছেন না জানিয়ে বলেন, জাল পাসপোর্ট বহনের কারণে উইঘুরদেরকে ২০১১-১২ সালে চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সমপ্রতি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালয়েশিয়া ২০১১ সালে ১১ জন উইঘুরকে চীনে ফেরত পাঠায়। তবে মালয়েশিয়ার বিমান নিখোঁজের সঙ্গে উইঘুরদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। শনিবার থেকে নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান বোয়িং-৭৭৭। ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিয়ে বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে যাত্রা করে বেজিংয়ের উদ্দেশে। মাঝপথে দক্ষিণ চিন সাগরের ওপর হঠাত্ উধাও হয়ে যায়। রাডার থেকে সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here