মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে বিএনপি কী অর্জন করছে? :প্রধানমন্ত্রী

13

529f090284cb5-25-03-13-PM-2প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের জন্য বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে বিএনপি কী অর্জন করছে? সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ কী ধরনের রাজনীতি? তাদের এ ধরনের রাজনীতি আমি বুঝি না, জনগণও বুঝতে পারছে না।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজীবুল বশর মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশে চলমান জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা রোধে ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অতিদ্রুত সেনাবাহিনী নামানোর দাবি জানায় তরিকত ফেডারেশন।

প্রধানমন্ত্রী জনগণের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সংগ্রামের উল্লেখ করে বলেন, তার দলের এসব মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র সুরক্ষা ও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ চিরতরে নির্মূলের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিলো। ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ কঠোর হাতে দমনের মাধ্যমে দেশকে এই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত সূচকের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সূচকেই প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে হরাস পেয়েছে। কিন্তু দেশের একশ্রেণির লোক এ কথা মানতে চায় না। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ব্রিফিং করেন।

আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে তরিকত ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ বলেন, সাধারণ নাগরিকরা বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছে না। তারা বলেন, বিএনপি নেতার তথাকথিত এই আন্দোলনে কেবলমাত্র জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের সঙ্গে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিরাই অংশ নিচ্ছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছেন দেশের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজীবুল বশর মাইজভান্ডারী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে চলমান জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা রোধ ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অতিদ্রুত সেনাবাহিনী নামানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বর্তমান সরকার যে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করেছে তারপক্ষেও সমর্থন জানায় তরিকত ফেডারেশন।

মাইজভান্ডারী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে আসবে, কে আসবে না তা সময়ই বলে দেবে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য তরিকত ফেডারেশন ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাবে। তিনি বলেন, জাতি আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির সকল দলগুলোর অংশগ্রহণে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াত জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস শিবিরের বোমার আঘাতে মানুষ মারা যাচ্ছে, বাসে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তাই আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি তারা বসে থাকতে পারি না। তিনি বলেন, আমরা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এর নিবন্ধন বাতিল করেছি। সব সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালু রাখার পক্ষে কথা বলে এসেছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নজীবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, জাতীয় পার্টির (এ) নির্বাচনে আসা উচিত। এইচ এম এরশাদ বলেছেন, জামায়াত-শিবির আসলে উনার কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু এরশাদ সাহেব যদি নির্বাচনে এসে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তাহলে জাতি তাকে আজীবন স্মরণ রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here