মাইজদী বিআরটিসি বাস ভাংচুর,গ্রেফতার, নোয়াখালীতে আধাবেলা হরতাল ।

51

BRTCনাসির দ্রুব তারা, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ জনতার নিউজ।

ভাংচুর কৃত বিআরটিসি বাস

যৌথ বাহিনীর অভিযান ও সেনাসদ্যসদের টহলে নাশকতা কিছুটা কমলে ও পরিস্থিতির আশানুরুপ উন্নতি হয়নি, গ্রেফতার হননি বেশীরভাগ নাশকতাকারী । যার ফলে বিক্ষিপ্তভাবে চলছে ভাংচুর, বোমবজি, অবরোধ । নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পুলিশী পাহারায় বিআরটিসি বাস চেড়ে যাওয়ার সময় অবরোধ ও হরতাল সমর্থকরা ইটপাটকেল ছোড়ে বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাংচুর করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পিকেটাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় ৪জনগুলিবিদ্ধসহ অনন্ত ১০জন নেতাকর্মি আহত হয়েছে বলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দাবি করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫জনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলা শহরের মাইজদী বাজার টেলিভিশন সেন্টার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি বিআরটিসি বাস চেড়ে যায়। বাসটি জেলা শহরের নাপিতের পুল এলাকায় আসা মাত্র ১৮ দলের পিকেটাররা বাসটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে বাসটি দ্রুত চেলে যেতে থাকলে পুনরায় মাইজদী বাজারের টেলিভিশন সেন্টার এলাকায় পৌঁছলেও পিকেটারা পুনরায় ইটপাটকেল ছুড়ে বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাংচুর করে। তাৎক্ষণিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পিকেটারদের ধাওয়া করে। এক পযায়ে পিকেটাররা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল ছুড়ে। এতে সুধারাম থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইটের আঘাতে আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় শহর ছাত্রদলের নেতা কাউসার হোসেন ফারুক (২৬), যুবদল নেতা আকবর হোসেন (৩৫), ছাত্রদল কর্মি ফারুক (২২) ও স্থানীয় ব্যবসায়ী জামালগুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫জনকে আটক করে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদার গুলি বর্ষণ ও ৫জনকে আটের বিষয়টি জনতার নিউজকে  নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে পিকেটাররা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়লে তিনি আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে কত রাউন্ড ছোড়া হয়েছে এখনও পযর্ন্ত তার হিসাব করা হয়নি। নোয়াখালী জেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল করিম মুক্তা এবং সূবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও মোহাম্মদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল আলম সেলিমকে জেলা শহর মাইজদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম থানা পুলিশ। এর প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মঙ্গলবার আধা বেলা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি।সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জনতার নিউজকে নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, অবরোধসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতার অভিযোগ রয়েছে।এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান মঙ্গলবার নোয়াখালীতে আধা বেলা হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লক্ষীপুর সকালে জেলা শহরের দক্ষিণ কালীবাড়ী নামকস্থানে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। পরে মিয়া শহরের রাস্তারমাথা থেকে অবরোধের সমর্থনে বের হওয়া জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় পৌঁছলে পুলিশী বাঁধার মুখে তা ফিরে যায়।এদিকে সকাল থেকে পৌর শহরের ইটেরপুল, বাস টার্মিণাল ও দালালবাজার এলাকায় অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ১৮দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকে শহরে দু’একটি রিক্সা ছাড়া অন্য সকল যানবাহন চলাচল ও দোকান পাঠ বন্ধ রয়েছে।এখানে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়নি উল্লেখযোগ্য নাশকতাকারী জামাত শিবিরের কেউ। লক্ষীপুর সদরে নিউ আধুনিক হাসপাতাল, উপসম হাসপাতাল, বনরুপা হাউজিং, গোলন্দাজ হাউজিং জামাতি প্রতিষ্ঠান । জেলার দালাল বাজার, জোখসিং বাজার, মিয়া রাস্তার মাথা, মিয়া রাস্তার হাট, মানদারি, হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ বাজার, বিবিরহাট, রামদয়াল বাজার, আজাদনগর, আলেকজান্ডার বাজার সহ আরো বেশ কয়েকটি পয়েন্টে রয়েছে জামাত-শিবিরের শক্ত অবস্থান ।এর মধ্যে দালালবাজারে নিবাচনী প্রচারনার সময় হামলার স্বীকার হয়েছেন আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র প্রাথীর গাড়ি বহরে ।হামলার স্বীকার হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ সোলেয়মান হাওলাদের উপর, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তার ব্যাবহৃত মটরসাইকেল। গুরুতর আহত অবস্থায় ২২/১২/১৩ইং তাকে লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে ভতি করা হয় ।অন্য জায়গার চেয়ে নোয়াখালী এবং লক্ষীপুরে অনেক বেশী গাছ কেটেছে নাশকতাকারীরা । আর নৃশংসতার স্বাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে গাছের গোড়া। নোয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের আওতায় রাস্তার পার্শ্ববর্তী ১১’শ দুইটি গাছ কেটেছে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীর। আর বৃক্ষ নিধনকারীরেদ দুস্কৃতি আখ্যা দিয়ে ইতোমধ্যে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে; গাছ কাটার মামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। মঙ্গলবার সরেজমিনে নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায় সেনবাগের সেবার হাট, তিন পুকুরিয়া, ভূঁঞার দিঘি, রাস্তার মাথা ও ছমির মুন্সির হাট এলাকায় ১৮ দলীয় জোটের নৃশংসতার স্বাক্ষী হিসাবে অনেক পুরাতন ও পরিণত গাছগুলোর গোড়া দাঁড়িয়ে আছে। বেশীরভাগ গাছ বনবিভাগ উদ্ধার করে নিলেও এখনো অনেক গাছ রাস্তার পাশে পড়ে আছে। নোয়াখালী উপকূলী বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার সোনাইমুড়িতে ১৩০টি, বেগমগঞ্জে ১১৮টি, সেনবাগে ৯১টি, কোম্পানিগঞ্জে ৭৩টি, কবিরহাটে ১০টি, সদরে ৫৫টি, সুবর্ণচরে ৩২টি এবং চাটখিলে ১৬টি গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে অবরোধকারীরা। একই বিভাগের আওতায় লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলায় ৩১০টি, কমলনগরে ১১০টি, রামগতিতে ১০০টি, রামগঞ্জে ১১৭টি এবং রায়পুরে ৫০টি গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। তবে; একই সাথে মহাসড়কের পাশ্ববর্তী বাসিন্দাদের ফলদ ও বনজ গাছ কেটেও রাস্তার ওপর ফেলা হয়। এছাড়া ২-৩ বছর বয়সী প্রায় ২ হাজার গাছ নষ্ট করা হয়েছে। নোয়াখালীতে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করার ঘটনায় সুধারাম থানায় ২টি, কোম্পানিগঞ্জে ১টি, কবিরহাটে ১টি এবং সোনাইমুড়িতে ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নোয়াখালী বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সানা উল্যাহ পাটোয়ারি জানান, কেটে ফেলা গাছের বেশীরভাগই ইতোমধ্যে বনবিভাগ উদ্ধার করেছে। বাকীগুলোও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে; আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি করা হয়েছে এই বৃক্ষ নিধনের ফলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here