মন্ত্রিসভায় ছোট শিল্পের জন্য ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন

13

cabinet

মন্ত্রিসভা ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বাস্তবায়িত চারটি সমাপ্ত প্রকল্পের সমন্বয়ে নতুন ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে দারিদ্র্য বিমোচন সংক্রান্ত বিসিকের সমাপ্ত চারটি প্রকল্পের সমন্বয়ে ‘ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প ফাউন্ডেশন’ গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আইন ২০১৪’র খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এ নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সচিব বলেন, বিসিক অতীতে বাস্তবায়ন করেছে এমন চারটি প্রকল্প নিয়ে নতুন আকারে এ ফাউন্ডেশন গঠন করতে যাচ্ছে। সমাপ্ত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- মহিলা ও শিল্প উদ্যোক্তা প্রকল্প, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্বনির্ভর প্রকল্প, আয় বর্ধক দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতি তেজীকরণ প্রকল্প।
মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ফাউন্ডেশনের মূলধন গঠনে অর্থ বিভাগ ৫০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া সমাপ্ত চারটি প্রকল্পের মূলধন ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বর্তমানে লাভসহ ৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সে অর্থও এ ফাউন্ডেশনের মূলধন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে বর্তমানে ফাউন্ডেশনের মোট মূলধনের পরিমান দাঁড়িয়েছে ১২৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সুপারিশে সরকার অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জয়েন্ট স্টক কম্পানির রেজিস্টার্ডভুক্ত এ ফাউন্ডেশন অ্যাসোসিয়েশন অব মেমোরেন্ডাম এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বিজনেস প্লান অনুয়ায়ী পরিচালিত হবে। ফাউন্ডেশন দুই বছর কাজ করার পর তৃতীয় পক্ষ দ্বারা এর কার্যক্রম অডিট করবে।
মন্ত্রীপরিষদসচিব বলেন, ফাউন্ডেশন দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ ও আনুষঙ্গিক সহায়তা দেবে। যেমন- ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি ও জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফাউন্ডেশন ঋণ দেবে। তিনি আরো বলেন, আজকের বৈঠকে ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আইন, ২০১৪’ খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রিসভায় আসবে।
সচিব বলেন, পল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগের ১৯৮৬ সালের এক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে এ আইন করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সে আইনটিই বাংলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। তবে পরিবর্তন যেটুকু এসেছে, তাকে মৌলিক বলা যাবে না। তিনি বলেন, খসড়া আইনে পরিচালনা বোর্ডকে কিছুটা ছোট করা হয়েছে, আবার মৎস্য মন্ত্রণালয়কে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আগে যেমন মন্ত্রীই শুধু সভাপতিত্ব করতে পারতেন, এখন মন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীও সভাপতিত্ব করতে পারবেন। এ ছাড়া বছরে দুটি সভা করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আরো বলেন, সভায় ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন আইন, ২০১৪’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সামরিক শাসনামলে করা এ আইনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে বলে আইনটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, মাইক্রো হলো ক্ষুদ্রের চেয়ে আরো ক্ষুদ্র। আর শিল্পনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাইক্রোর আলাদা ডেফিনেশন দেওয়া আছে। তাই ফাউন্ডেশেনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাইক্রো উভয় শব্দই ব্যবহার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here