মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে তলব –

13

motiদৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মিজানুর রহমান খানকে আদালতে তলব করা হয়েছে। আগামী ৬ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় সংশ্লিষ্ট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে তাঁকে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবু তালেবের করা পৃথক এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুজনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না এবং তাঁদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে পৃথকভাবে আরো একটি রুল জারি হয়েছে। আগামী ৬ মার্চ এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো ‘মিনিটে একটি আগাম জামিন কিভাবে?’ শিরোনামে যে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে তা হাস্যকর ও বিদ্বেষপূর্ণ। এই নিবন্ধের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মান, সম্মান, মর্যাদা ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত করা হয়েছে, যা চরম অবমাননাকর।
আদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ শুনানিতে বলেছেন, এ নিবন্ধ বিচার বিভাগের ওপর কলঙ্গ লেপন করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিচার বিভাগকে জনগণের কাছে খাটো করা হয়েছে। তাই অবমাননাকারী বিবাদীদের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রুল জারি করা হলো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘মিনিটে একটি আগাম জামিন কিভাবে?’ এবং ১ মার্চ ‘ছয় থেকে আট সপ্তাহের স্বাধীনতা’ শিরোনামে প্রথম আলো পত্রিকায় দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। নিবন্ধ দুটি লেখেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। এসব নিবন্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এই নিবন্ধ দুটির বিষয় গতকাল সকালে সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আনেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, আব্দুর রব চৌধুরী, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আদালত তাঁদের বক্তব্য শোনেন। এরপর স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দেন।
আদালতের এই আদেশের পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবু তালেব প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক মতিউর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে পৃথক একটি আবেদন দাখিল করেন। এ আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আহসানুল করীম ও ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলারুজ্জামান। শুনানির পর আদালত রুল জারি করে আদেশ দেন। আদেশের পর অ্যাডভোকেট আহসানুল করীম সাংবাদিকদের বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু তালেব প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here