মঞ্জুর হত্যা মামলার রা্য হল না কারন নতুন বিচারক যুক্তিতর্ক শুনবেন ২৭ ফেব্রুয়ারি

42

Manzurগতকাল সোমবার ধার্য দিনে মেজর জেনারেল এমএ মঞ্জুর হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা হল না। নতুন নিযুক্ত বিচারক জানিয়েছেন, তিনি আবার যুক্তিতর্ক শুনবেন। যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার হাসান মোহাম্মদ ফিরোজ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত (অস্থায়ী) প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হোসনে আরা আকতার মামলার রায়ের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু ২৯ জানুয়ারি মঞ্জুর হত্যা মামলার এই বিচারক পরিবর্তন হয়। তার পরিবর্তে বিচারের দায়িত্ব পান ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ খন্দকার হাসান মোহাম্মদ ফিরোজ।

গতকাল এ মামলার রায় প্রদানের জন্য দিন ধার্য ছিল। এজন্য আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ধার্যকৃত দিনে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালতে উপস্থিত হন এ মামলার প্রধান আসামি সাবেক সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদ। এরশাদের সাথে আদালতে আসেন তার ছোট ভাই জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের ও দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। এর আগে এরশাদের গাড়ির বহর ঘিরে শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী শ্লোগান দেন। এরশাদ ছাড়াও আদালতে মামলার অপর দুই আসামি মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক ও লে. কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া হাজির হন। বাকি দুই আসামি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ ও লেফটেনেন্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শামসের বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। তবে মামলার ৫ আসামিই উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন।

গতকাল বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে এজলাশে আসেন বিচারক খন্দকার হাসান মোহাম্মদ ফিরোজ। তিনি উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, মঞ্জুর হত্যা মামলাটি পুরনো। আমি মামলার নথিপত্র কিছুটা পর্যালোচনা করেছি। আরো পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য আমি মামলার উভয়পক্ষকে শুনব। তখন এরশাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আজ (সোমবার) মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আপনি (বিচারক) যদি মামলার উভয়পক্ষকে পুনরায় শোনেন তাহলে আজকের আদেশ (রায় ঘোষণা) রিকল করতে হবে। তখন রায় প্রদানের দিন ধার্য করে ইতিপূর্বে দেয়া আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে বিচারক বলেন, আইনজীবীরা হলো কোর্ট অফিসার। আপনাদের কাজ হলো কোর্টকে সহায়তা করা। তাই ভবিষ্যত্ জটিলতা নিরসন এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে রায় ঘোষণা থেকে বিরত থাকা হলো। একইসঙ্গে মামলাটি পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হলো। এরপরই বিচারক ২৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আদেশে মামলার দুই আসামির বিচার কাজ স্থগিত রয়েছে-এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের সর্বশেষ অবস্থান আদালতকে অবহিত করতে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেন। এরপরই বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আসাদুজ্জামান খান রচি, আসামি লে. কর্ণেল (অব.) মোস্তফা কামালউদ্দিন ভূঁইয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

পরে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় নতুন বিচারক নিয়োগের কারণে বিচারক নতুন করে যুক্তিতর্ক শুনতে চেয়েছেন। তিনি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হবেন। তাই নতুন করে যুক্তিতর্ক শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন।

অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিচারক মামলার রেকর্ডপত্র দেখেছেন। রেকর্ডপত্র আরো পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। এজন্য তিনি উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনবেন। এটা সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার।

মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় এরশাদসহ মোট পাঁচজনের বিচার চলছে। এর মধ্যে এরশাদ অভিযোগপত্রভুক্ত প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, ১৯৮১ সালের ৩০ মে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে এরশাদের নির্দেশে কতিপয় সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। এ বিষয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে বিমান বাহিনীর তত্কালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরউদ্দীনসহ সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ও আদালতে জবানবন্দি দেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার পথে তাকে পুলিশ আটক করে। এরপর ২ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে হাটহাজারী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তাতে অভিযোগ করা হয়, জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশের কাছ থেকে মেজর কাজী এমদাদুল হক সেনা হেফাজতে নেন। পরে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here