ভারতে ১’শ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করতে চাই: তোফায়েল

20

tofayelবাংলাদেশ ভারতে রফতানীর পরিমাণ বাড়িয়ে ১’শ কোটি ডলারে নিয়ে যেতে চায়। এই লক্ষ অর্জনে বাণিজ্যিক বাধাসমূহ দূর করে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে ভারত সহযোগিতা করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আজ শুক্রবার বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী ‘সার্ক বিজনেস লিডার্স এনক্লেভ’-এ যোগদানের জন্য এখন নয়াদিল্লীতে অবস্থান করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এই সম্মেলন শুরু হয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা শিল্পের কাঁচামালসহ অনেক পণ্য ভারত থেকে আমদানী করে থাকি। ভারত থেকে আমদানী করা কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উত্পাদান করে বিদেশে রফতানি করে থাকি।

এ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্য উন্নয়নের জন্যে কানেক্টটিভিটি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যোগাযোগের অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা দরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি এই বিষয়ে ‘সার্ক বিজনেস লিডার্স এনক্লেভ’-এ আগত সকল বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ব্যবসায়ীর সংগে আলোচনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার এখানে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী সার্ক বিজনেস লিডার্স এনক্লেভ-এ যোগদানের জন্যে বর্তমানে তিনি ভারত সফর করছেন। এতে সার্কভুক্ত দেশসমূহের সকল বাণিজ্যমন্ত্রী এবং চেম্বারের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

তোফায়েল আহমেদ আজ সার্ক বাাণিজ্যমন্ত্রীদের প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশর ব্যবসা বাণিজ্য বিনিয়োগ সুবিধাসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভারতের সাথে ট্রান্সশিফটমেন্ট চুক্তি করেছিলেন কিন্তু পরবর্তিতে বিএনপি সরকার সেই চুক্তি বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেননি। তিনি বলেন, এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশ লাভবান হতো বলে তিনি মনে করেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের সংগে আমদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুবই ভাল। বাংলাদেশের উত্পাদিত পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক আরো বেশি ভারতে রফতানী করতে পারা যায় সে বিষয়ে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের ‘সেভেন সিসটার’-এ আমাদের উত্পাদিত পণ্য রফতানীর প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত তাদের দেশে আমাদের পণ্যের শুক্লমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন শুল্কবহির্ভূত বাধার কারণে আমারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারছিনা।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বাংলাদেশে রয়েছে। আমারাও ভারতের ত্রিপুরা, গৌহাটি, মেঘালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক কার্যালয় গড়ে তুলবো।

বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে নাশকতার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য এবং শিল্পের ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত জামাত-বিএনপি নাশকতা করে ব্যবসা বাণিজ্যের অনেক ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্যে ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়ীরা দক্ষ এবং যোগ্য তারা এই ক্ষতি খুব তাড়াতাড়ি কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানী খাত পোশাক শিল্পকে সচল রাখার জন্যে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here