বড় জায়গায় কানেকশন আছে নইলে তোকে খেয়ে ফেলতাম’ নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী

21

mridulঅপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে-ছেন। গতকাল বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাশফিকুল ইসলাম তার খাস কামরায় এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন। প্রায় পৌনে দুই ঘন্টাব্যাপী জবান-বন্দি প্রদানের সময় মৃদুল চৌধুরী তাকে অপহরণ, তার ওপর বর্বর নির্যাতন ও মুক্তির সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, মুক্তি দেয়ার আগে নির্যাতনকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে, ‘তুই অনেক শক্তিশালী। তোর সাথে বড় বড় জায়গায় কানেকশন আছে বলে তোকে আমরা ছেড়ে দিলাম। তা না হলে খেয়ে ফেলতাম।’ জবানবন্দি দেয়ার এক পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আদালতকে মৃদুল চৌধুরী বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানার পুরাতন টেলিগ্রাফ রোডের বাসভবনের সামনে থেকে ৫-৬ জন অস্ত্রধারী তাকে জোর করে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এক আত্মীয় তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা নিজেদের র্যাব ও ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। গাড়িতে তোলার পর মৃদুল চৌধুরীর মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। কয়েক ঘন্টা গাড়ি চলার পর তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়।

‘আমরা র্যাবও না, ডিবিও না, আমরা সন্ত্রাসী’

নির্যাতন বিষয়ে মৃদুল চৌধুরী আদালতকে জানান, বাঁশ ও বেত দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো ছাড়াও অপহরণকারীরা তার মলদ্বার দিয়ে ডিম প্রবেশ করিয়েছে। বিদ্যুতের শক দিয়েছে। এসময় তারা বলেছে, আমরা র্যাবও না, ডিবি পুলিশও না, আমরা সন্ত্রাসী। তবে নির্যাতনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন তিনি র্যাবের বিরুদ্ধে ৮০ ভরি স্বর্ণ লুটের মামলা করেছেন। অপহরণকারীরা মৃদুল চৌধুরীর মুক্তির বিনিময়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করেছে। তিনি অপহরণকারীদের ৪০ লাখ টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন। তবে পরে তারা আর টাকা দাবি করেনি। টাকা ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য অপহরণকারীরা

এর আগে জবানবন্দি প্রদানের জন্য মৃদুল চৌধুরীকে দুপুর ২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নগরীর রয়্যাল হাসপাতাল থেকে আদালতে আনা হয়। এরপর তাকে প্রায় আড়াই ঘন্টা সিএমপির সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) এর কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। এসময় কাউকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।

অপহরণ হওয়ার সাত দিন পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে কুমিল্লার বুড়িচং থানাধীন কংসনগর বাজার থেকে মৃদুল চৌধুরীকে উদ্ধার করা হয়। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হার্টে সমস্যা ধরা পড়েছে এবং প্রেশার ও ডায়াবেটিসের সমস্যা বেড়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। গতকাল আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর মৃদুল চৌধুরী বাসায় ফিরে গেছেন।

প্রসঙ্গত, অপহরণের পর মৃদুলের স্ত্রী শেলী চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ৮০ ভরি স্বর্ণ লুট হওয়ার ঘটনায় র্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার স্বামীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অপহরণ করেছে। ঘটনার দুই মাস পর র্যাব ২ এর এক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আসামি করে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন মৃদুল চৌধুরী। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here