বোমাবাজদের বদনামের শিকার শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসী

18

bomaপিনাকি দাসগুপ্ত

 

গ্রামের নাম স্বরূপনগর (মহল্লা)। দেশের আর পাঁচটি গ্রামের মতোই। অবস্থান উত্তর জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের (পৌর এলাকা) সদর থানায়। এলাকাটি অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় বলেই পরিচিত। কিন্তু গত এক বছরে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তা হয়ে উঠেছে ‘বোমাখ্যাত গ্রাম’। হাতেগোনা কয়েকজন দুর্বৃত্ত শান্তির স্থানটিকে (মহল্লা) বোমা বানানোর কারখানায় পরিণত করেছে। চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের ভয়ে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস করতো না। আর দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ডের জন্যই গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষকে শুনতে হচ্ছে ‘বোমা গ্রাম অপবাদ’। এ বক্তব্য ঘটনাস্থল পরির্দশনকারী র্যাবের একজন কর্মকর্তার যিনি র্যাব-৫ এ কর্মরত আছেন প্রায় দেড় বছর ধরে।

তবে অপবাদ তৈরির জন্য দায়ী যারা তাদের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে র্যাব গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এরা হচ্ছে মোহাম্মদ আলী (৫৭)। যিনি এলাকায় একজন নামি-দামি একজন ব্যবসায়ী ও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে তার আরও দুই সহযোগী রবিউল আলম (৩৩) ও আবুল কালাম আজাদ (৩৪)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৭টি ককটেল, ৪ কেজি ৬৭০ গ্রাম বিস্ফোরক ও ১১টি রামদা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্বরূপনগর উপজেলার মৃত আলহাজ্ব আফসার উজ্জামানের ছেলে মোহাম্মদ আলী। পেশায় ব্যবসায়ী। উপজেলা শহরে তার রয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউন (স্বরূপনগর উপজেলা মার্কেটের দোকান নং-২৩ ) থেকে উদ্ধার করা হয় ককটেল ও বিস্ফোরক। মোহাম্মদ আলীর সহযোগী রবিউল আলমও একই এলাকার। তার বাবার নাম আব্দুস সালাম। আর আবুল কালাম আজাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর থানার রাজাপাড়ায়। তার বাবার নাম আব্দুল হামিদ।

র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ বলেন, গ্রেফতারকৃতরা বিশেষ করে মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় নাশকতা চালাচ্ছিল। এ অঞ্চলে যত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে তার সবটাই সরবরাহ করা হয়েছে স্বরূপনগর গ্রাম থেকে। কিন্তু বিষয়টি এতটাই গোপনীয়তায় করা হয়েছে তা ধরার কোন উপায় ছিল না। অনুসন্ধান চালিয়ে র্যাব নিশ্চিত হয় বোমা তৈরি ও বোমার যোগানদাতাসহ বিভিন্ন নাশকতার মূল হোতা মোহাম্মদ আলীই। এরপরই বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে উদ্ধার করা হয় ককটেল, বিস্ফোরক ও রামদা। এছাড়া তার দেয়া তথ্যমতে তার দলের অন্যতম দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশ এলাকায় এ যাবত্কাল যেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে তার সবগুলোই তাদের নির্দেশে হয়েছে। তাদের অপর সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

র্যাব মিডিয়া এন্ড লিগ্যাল উইং এর পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশ এলাকায় নাশকতাকারীদের ধরতে র্যাব ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। আশা করা যায় খুব শিগগিরই নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি তসলিম উদ্দিন জানান, গ্রেফতার হওয়ার পর গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাব-৫ এর মেজর সাইফুজ্জামান জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে তিনটা পর্যন্ত স্বরূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে স্বরূপনগর উপজেলা মার্কেটের দোকান নং-২৩ এ ককটেল, বিস্ফোরকদ্রব্য এবং দেশীয় তৈরি অস্ত্র মজুদ রেখেছিল।

সুত্রঃ ইত্তেফাক

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here