বীরের বেশে নয়, চোরের বেশে দেশে ফিরতে হবে তারেক জিয়াকে।রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা

6

parlamentবিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, নির্বাচনী ট্রেন মিস করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তিনি এখন আবোল-তাবোল বকছেন। আর তার দুর্নীতিবাজ ছেলেরা বিদেশে বসে নানা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। কিন্তু কোনো হুমকিতেই কাজ হবে না। তারা আরো বলেন, তারেক জিয়া বীরের বেশে দেশে ফিরবে বলে বিএনপি নেতারা দাবি করলেও আসলে তাঁকে চোরের বেশে দেশে ফিরতে হবে। সোমবার রাতে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তাঁরা এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আলোচনার চেয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচন পূর্ববতী দেশজুড়ে ভয়াল নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞের তীব্র সমালোচনা করেন।
আওয়ামী লীগের শামসুল হক চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দশম সংসদ নির্বাচন করবেনই। একচুলও নড়বেন না। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অনেক উন্নয়ন করেছেন। ঢাকাকে আজ চেনা যায় না। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির রাজাকাররা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে আসতে দেয়নি। আজ তিনি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। তাঁর ছেলে লাদেনের মতো ভিডিওর মাধ্যমে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু সেই আহ্বানে জনগণ সাড়া দেয়নি। আমার এলাকায় একটি কেন্দ্রও বন্ধ করতে পারেনি। কোনো হুমকিতে কাজ হয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেক জিয়া বীরের বেশে দেশে ফিরবেন। কিন্তু তাঁকে দেশে ফিরতে হলে চোরের বেশেই ফিরতে হবে। জেলখানায় যেতে হবে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন রাষ্ট্রপতির ভাষণকে রাজনৈতিক দলিল মন্তব্য করে বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বিগত ৫ বছর রাজস্ব আয়, মাতাপিছু আয়, রেমিটেন্স ইত্যাদি বৃদ্ধি করেছে। রাষ্ট্রপতি তাতে সনে্তাষ প্রকাশ করেছেন। সামপ্রদায়িকতা দূর করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়েছে। তাঁর ভাষণের তুলনা হয় না। তিনি তার এলাকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দরিদ্র মানুষ ও দু’টি স্থল বন্দরের উন্নয়ন দরকার বলে মন্তব্য করে বলেন, তিনি অনেক কাজ করেছেন। তারপরও অনেক কিছু বাকি রয়ে গেছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতিত সমতল ভূমির সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানান।
জাসদের নাজমুল হক প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে ‘অস্বচ্ছল’ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি পাকিস্তান যাওয়ার ট্রেন পাচ্ছে না বলে আবোল-তাবোল বলছে। তারা ষড়যন্ত্র করছে। তিনি জঙ্গিবাদ দমন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমনের পরামর্শ দেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী আলোচনার সূচনা করে বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল দাবি করলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের দাবি জানান।
কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির আমির হোসেন বলেন, বিগত ৫ বছর যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে তার দাবিদার শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জাতীয় পার্টিও। সরকারের এই উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে তিনি সবার সহযোগিগতা কামনা করেন।
আওয়ামী লীগের ড. মো. শামসুল হক ভুঁইয়া ফরিদগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজকে সরকারীকরণ ও এলাকায় গ্যাস সংযোগ এবং ১০ হাজার টিউবওয়েল বরাদ্দের দাবি জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের সফলতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
আওয়ামী লীগের নূরুজ্জামান আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে শেখ হাসিনা এখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছেন। তিনি ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামে রংপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
আলোচনায় আরো অংশ নেন আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ, ড. শামসুল হক ভুঁইয়া, নুরুজ্জামান আহমেদ, আবু রেজা মো. নিজাম উদ্দিন ও সোহরাব উদ্দিন এবং জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here