‘বিশ্বমানের’ স্বীকৃতি পেল শাহ আমানত বিমানবন্দর

31

timthumb.php
যাত্রা শুরুর ১৩ বছর পর বিশ্বমানের বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেল চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) এ স্বীকৃতি দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন শাহ আমানত বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার নূর-ই-আলমের কাছে এ সনদ তুলে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত উইং কমান্ডার নুর-ই-আলম গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘এ সনদ পাওয়ার মাধ্যমে শাহ আমানত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণ বাড়বে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এ বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ ও স্বীকৃত বিবেচনায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমান চলাচলও বৃদ্ধি পাবে। এখন থেকে বিমানবন্দরটি প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বমানের হলো।’ এ বিষয়ে আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানানো হবে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, এ বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার জন্য গত এক বছরে ১১টি দেশের ন্যাশনাল ক্যারিয়রের সাথে চুক্তি সই হয়েছে। ৩৭টি দেশের সাথে চুক্তির পথে। আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের সাথে চুক্তি সই হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর আইকাও’র ৫ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসেন। প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রামে তিনদিন অবস্থান করে বিমানবন্দরের যাবতীয় পরিচালন, গ্রাউন্ড এইড, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর পর্যবেক্ষণের ওপর একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন আইকাওয়ে পাঠান তারা। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইকাও স্বীকৃতি সনদ প্রদান করে । প্রতিনিধি দলে ছিলেন-পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারম্যান ও বেবিচকের ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স বিভাগের পরিচালক এস এম নাজমুল আনাম। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী সুভাশীষ বড়ুয়া, শিরিন সুলতানা ও আইয়ুব খান।
সূত্র জানায়, ১৯৪০ এর দশকে ব্রিটিশ শাসনামলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরটি তৈরি হয়। তখন চট্টগ্রাম এয়ার ফিল্ড হিসেবে এটি পরিচিতি পায়। এরপর বিমানবন্দরটির উন্নয়নে আর কোন কাজ হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭-৭৮ সালে ৭৬২ মিটার প্রস্থ ও তিন হাজার ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যের রানওয়ে তৈরি করা হয়। ১৯৮৪-৮৫ সালে রানওয়ের আশপাশ বর্ধিত ও কার্পেটিং করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর টামির্নাল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়।
এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৬ সালে। এ সময় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার জন্য জাপান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তির আলোকে ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর ২০০০ সালে উন্নয়ন কাজ শেষ হয়। এর পর শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা দেওয়া হলেও এতদিন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) কোনো স্বীকৃতি ছিল না এ বিমানবন্দরের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here