বিমানের সেবার মান উন্নত করতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্বাগতম ‘আকাশ প্রদীপ’, বিদায় ডিসি-১০

15

image_108306প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সেবার মান উন্নত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, যাত্রীদের সেবা দেয়ার জন্য বিমানের কর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিমান খুব দ্রুত একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বহরের নতুন সদস্য তৃতীয় বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ‘আকাশ প্রদীপ’-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ডিসি-১০-৩০ উড়োজাহাজের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রী ডিসি-১০-এর বিদায়কে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত একটি আন্ডারপাস তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রীরা সহজেই ওই আন্ডারপাস দিয়ে স্টেশন থেকে বিমানবন্দরের দিকে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং রেল মন্ত্রণালয় একসঙ্গে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেট-লন্ডন রুটে বিমানের দুটি সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার কাছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজও শিগগির শুরু করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর জাতীয় বিমান সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সে সময় তার (বঙ্গবন্ধুর) নির্দেশে ১৯৭২ সালে এই জাতীয় এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর নতুন বিমান কেনাসহ বিমানবন্দর উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়। সে সময় কারপার্কিং ও বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যাত্রী সেবা উন্নত করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ বিমানে উড়তে চায়। উন্নত সেবা পেলে তারা অবশ্যই বিমানকে তাদের পছন্দের শীর্ষে রাখবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানের ক্যাটারিং সার্ভিস উন্নত করা প্রয়োজন এবং ই-টিকেট ও শুল্ক মুক্ত স্কাই শপিং চালু করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে এভিয়েশন শিল্প দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানও বৈশ্বিক পরিসরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এগিয়ে চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী মাসে চতুর্থ বোয়িং বিমান বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হবে এবং পরের বছর আরো একটি আসবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য দু’টি ছোট বিমান কেনা হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সব রুট পুনরায় চালু করা হবে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিমান পরিবহনের জন্য সকল অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের পাশাপাশি বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোরও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় প্রতিবছর ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় হজ্বযাত্রী পরিবহন সম্ভব হচ্ছে। দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিমান যাত্রীরা যাতে ট্রেনে চড়ে বিমানবন্দরে আসতে পারেন সে জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) জামাল উদ্দিন আহমেদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব খুরশিদ আলম চৌধুরী, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, বোয়িং কোম্পানীর পরিচালক (ইন্টারন্যাশনাল সেলস) সবিতা গৌদা ও বিমানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন স্টিল।

২০ ফেব্রুয়ারি ডিসি

১০ বার্মিংহাম যাবে

ডিসি ১০ উড়োজাহাজটি ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে প্রথম যাবে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে। তবে ৩১৪ আসনের এ উড়োজাহাজে কোনো সাধারণ যাত্রী যাবেন না। ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি এক ঘণ্টা করে বার্মিংহামের আকাশে উড়বে এটি। এই তিন দিনের ঐতিহাসিক উড্ডয়নের জন্য টিকিট বিক্রি চলছে। এক ঘণ্টার ভ্রমণের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের দিতে হবে জানালার পাশের আসনের জন্য ব্রিটিশ মুদ্রায় ১৫০ পাউন্ড এবং মাঝের আসনের (আইল) জন্য ১০০ পাউন্ড। তবে ২৪ ফেব্রুয়ারির শেষ স্মরণীয় যাত্রায় টিকিটের দাম ৫০ পাউন্ড করে বেশি পড়বে। ওই দিনই এটি রওনা হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের উদ্দেশে। সেখানে জাদুঘরে গড়বে শেষ আবাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here