বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচন কেন অসাংবিধানিক নয়

12

high courtজাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারা কেন সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী দশ দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার এই আদেশ দেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম। আবেদনকারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসন থেকে জাপার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নির্দেশে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

উল্লেখ্য আরপিও’র ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়। এটি সংবিধানের ৭ (সংবিধানের প্রাধান্য) , ১১ (গণতন্ত্র ও মানবাধিকার), ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ৩১ (আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার), ৬৫ (২) (সংসদ-প্রতিষ্ঠা), ১২১ (প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা) ও ১২২ (২) (ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আল আমীন সরকার।

ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা প্রজাতন্ত্র পরিচালিত হবে। এটাই সংবিধানের বিধান। আমাদের দেশের সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার গঠনের জন্য ১৫১ জন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে দেখা গেছে ১৫২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের মতামতের কোন প্রতিফলন এক্ষেত্রে হয়নি। ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনগণ কর্তৃত্বে এ সরকার পরিচালিত হবে। কিন্তু জনগণ ভোটের মাধ্যমে কোন কর্তৃত্ব দেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here