বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বলছে আলো ভাসছে দেশ, ঘরে ঘরে আলোর রেশ’

18

pmবিদ্যুৎব্যবস্থার উন্নয়ন এত বেশি হয়েছে যে তা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এর প্রমাণ হিসেবে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ২০১৩ সালের মধ্যে সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনের কথা ছিল, কিন্তু অর্জন হয়েছে ১০ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে।

বিদ্যুৎব্যবস্থার উন্নয়নের স্লোগান হিসেবে ‘জ্বলছে আলো, ভাসছে দেশ’-এর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে যোগ করতে চাই, “ঘরে ঘরে আলোর রেশ”।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ন্যস্ত। বর্তমান সরকার গঠনের পর তিনি আজ প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ে আসেন এবং অফিস করেন। দেশ আজ ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আলাপ-আলোচনা করতে হয়েছে। কাজগুলো যাতে যথাযথভাবে হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর পেছনে যে খাটুনি, তা কম লোকেই বোঝেন। যাঁদের প্রশংসায় এই অর্জন, তাঁদের প্রশংসা কিংবা বাহবা দিতেও অনেকে কার্পণ্য করেন। কিন্তু আমি সব সময় বাহবা দিয়ে থাকি, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ছিল খুবই কঠিন কাজ।’

কীভাবে বিদ্যুৎব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে, তার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঞ্চালন লাইনগুলো খুব জরাজীর্ণ ছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। তাই একই সঙ্গে সরবরাহের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা গত মেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাফল্যের জন্য সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখন বিদ্যুতের জন্য সারা দেশে হাহাকার ছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দাবি পূরণ করতে গিয়ে কানসাটে অনেক মানুষ মারাও গিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ’৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার আগেও বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন এক হাজার ৬০০ থেকে বাড়িয়ে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট করি। সাত বছর পর ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে দেখি উৎপাদন বাড়েনি, কমে গেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রথম বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছি। এ লক্ষ্যে নতুন আইন তৈরি করতে হয়েছে। এখন ৬৯টি প্লান্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।’

ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতে নেওয়া পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবে। এজন্য গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে, নতুন কূপ খনন করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ থেকেও বিদ্যুৎ কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি নিয়ে আসার এবং গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া যেমন-রিনিউয়াল এনার্জি, সোলার এনার্জির ওপর আরও জোর দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হমিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ওয়াহিদ উজ জামান, ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুৎসচিব মনোয়ার ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

http://www.youtube.com/watch?v=MQJfPMPT5FQ&feature=player_embedded

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here