বিদেশি সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে সরকার

13

newসামপ্রতিক সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিভিন্ন দাতাদেশ এবং সংস্থা তাদের সাহায্যের পরিমাণ এ সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৩-২০১৪) বাজেটে যে পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা পাবার কথা ছিলো বাস্তবে তা আসবে না বলে সরকার ধরে নিয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তা পাবার লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে এনেছে।

সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে সরকার দাতাদেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট ৩৩৭ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পাবার আশা করেছিলো। অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসের গতিপ্রকৃতি দেখে এ সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়েছে ২৯৫ কোটি ডলারে। মূল টার্গেট থেকে সহায়তা কমাতে হয়েছে ৪২ কোটি ডলার।

মূলত: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বৈদেশিক সহায়তার টার্গেট পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেছেন, যেসব প্রকল্পের বিপরীতে সাহায্য নেয়া হয়, সেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন যথাসময়ে না হলে বৈদেশিক সাহায্য এমনিতেই কমে আসবে।

সরকার বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশ থেকে বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে- বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান, ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক, ইউএসএইড, ডিএফআইডি উল্লেখযোগ্য। সাধারণত:প্রকল্প সহায়তা, খাদ্য সাহায্য এবং বাজেট সহায়তা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ দাতাদেশ ও সংস্থাগুলো থেকে মোট ২৭৮ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছিলো।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আটমাসে দাতারা আগের অর্থবছরের চেয়ে কম সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। ইআরডি সূত্র জানায়, এসময়ে দাতারা মোট ২৮৪ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা দেয়ার কথা জানায়। গত অর্থবছরের একই সময়ে দাতারা মোট ৩৭৮ কোটি ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছিলো। যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম। ইআরডির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এবং পরে দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দাতারা কিছুটা শঙ্কিত ছিলো। প্রতিবার নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপার্সন রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, বৈদেশিক সাহায্য কমে আসলে তা আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) উপর চাপ পড়বে। এমনিতেই বেসরকারি বিনিয়োগ কমে আসছে। সাথে সাথে চলতি অর্থবছরের প্রথম আটমাসে দাতারা অর্থসাহায্যের অঙ্গীকার কম করলেও পূর্বে অঙ্গীকার করা অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাতারা মোট ১৮৩ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ এবং সাহায্য অবমুক্ত করেছে। এর আগের অর্থবছরে দাতারা একই সময়ে মোট ১২৫ কোটি ডলারের ঋণ এবং সহায়তা অবমুক্ত করেছিলো।

ইআরডি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আটমাসে বিশ্বব্যাংক ৬৬ কোটি ৮০ লাখ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৩৪ কোটি ৭০ লাখ, জাপান ২২ কোটি ৪০ লাখ এবং চীন ২৩ কোটি ডলারের সহায়তা অবমুক্ত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here