বিএনপি তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে: তোফায়েল

13

tofayelবাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রমাণিত হয়েছে জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে।’ আজ রবিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিক এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিএনপি অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ডাকলেও জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। সহিংসতা কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই কাজটি বিএনপি এত দিন করেছে।’

আগামী এপ্রিলের মধ্যে শর্ত পূরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত হওয়া জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নানা উদ্যোগের পরও শুল্ক-বাধার কারণে এ দিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ছে না। আমাদের দেশের তামাক ও অ্যালকোহল ছাড়া সব ধরনের পণ্যে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। ইউরোপ আমেরিকায় আমরা অনেক রফতানি করলেও ভারতে আমাদের রফতানি মাত্র ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো। ভারতে পণ্য রফতানিতে কিছু ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে। এগুলো ঠিক করলেই আমরা সেখানে ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করতে পারি।’

জানা গেছে—বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে আন্তঃদেশীয় সংযোগ ও বাণিজ্য ফোরাম বিসিআইএমকে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ অনেক বেশি লাভবান হবে। সার্ক হয়েছে, সাফটা হয়েছে, কিন্তু এগুলো আমাদের ইচ্ছা অনুসারে মুভ করছে না। আমার মনে হয়—আমরা যদি বিসিআইএম করতে পারি, তাহলে অনেক বেশি সুবিধা পাব।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবেশী ছয় দেশের সঙ্গে সার্ক নামের এই জোট গঠন করে বাংলাদেশ। পরে আফগানিস্তানও এতে যোগ দেয়। এই সংস্থার সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য-সুবিধা নিয়ে আলোচনার জন্য সাফটা নামে আলাদা একটি সংগঠন হলেও সার্ক ও সাফটা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে সমালোচনা রয়েছে। বিসিআইএম গঠনে গত প্রায় এক দশক ধরে তত্ত্বীয় আলোচনা চলার পর গত বছর এ ফোরামের বিষয়ে আলোচনা গতি পায়। গত বছর চীন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি ও বেইজিং সফরেও এই ফোরামের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এই ফোরামের আওতায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে চীনের কুনমিং থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, যে সড়ক যাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ওপর দিয়ে। কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ এখন চীনকে পশ্চিমা যেকোনো দেশ কিংবা সংস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এরই মধ্যে জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ভারত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। আমরাও বাকি থাকব কেন? বিসিআইএমকে এগিয়ে নিতে আলোচনা হচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here