বিএনপির শীর্ষ নেতাদের খবর নেই একাই লড়ছেন খালেদা

15

52aef14f2a178-bnp--logoরেজাউল করিম লাবলু: নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চলমান চূড়ান্ত আন্দোলনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশে এসে দাঁড়ালেন না তার দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। একাই লড়ে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে রাগও ঝাড়লেন সরকার ও পুলিশের ওপর। এসব দেখে দলটির তৃণমূল নেতাদের প্রশ্ন, আর কবে খালেদা জিয়ার পাশে এসে দাঁড়াবেন কোটি কোটি টাকার মালিক এই নেতারা।
এর আগে স্থায়ী কমিটি, মহানগর কমিটি, নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা জিয়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ, ঢাকা শহরের এমপি প্রার্থীদের মাঠে নামতে বলেছেন। একপর্যায়ে ঢাকার শীর্ষ এক নেতা আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আটক হন। কিন্তু কেউই মাঠে নামেননি। তিনি এমন কথাও বলেছেন, আপনারা মাঠে না নামলে আমি একাই নেমে যাব। কোনো কিছুতেই তাদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা বলছেন, ওদের অনেক টাকা হয়ে গেছে। ওরা আর মাঠে নামবে না। সুসময় এলে আবার আসবে ওরা। গতকাল দুপুরের পর থেকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের আশপাশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কিছু তৃণমূল নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। আলাপ করে জানা গেছে, ব্যক্তিগতভাবে চেয়ারপারসনের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা ছুটে এসেছেন গুলশানে তার বাসভবনে। তাদের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার শেষ নেই। ক্ষুব্ধ কেউ কেউ সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেন। তারা বলেন, যারা আন্দোলনে থাকবেন না তাদের পদে রাখারও দরকার নেই। আন্দোলন শেষে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়ে নতুনভাবে কমিটি গঠন করলেই চলবে।
সেখানে আগত ছাত্রদলের এক নেতা জানান, আমাদের কারও সঙ্গে কারও যোগাযোগ নেই। কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে তার কোনো নির্দেশনা দেওয়ার কেউ নেই। কী করব তাও বুঝতে পারছি না। বাধ্য হয়ে কেউ একা বের না হয়ে নিরাপদে থাকছি। যদিও এই মুহূর্তে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ছাত্রদলের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনেরও একই অবস্থা। তৃণমূল নেতারা জানান, গতকাল মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি কর্মসূচিকে সামনে রেখে দলের কোনো সিনিয়র নেতা মাঠে নামেননি। এমনকি মাঠে দেখা যায়নি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও। পুরো দিনে বেসরকারি টিভি চ্যানেলে মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসির সংবাদ দেখতে বসে নেতাদের পাওয়া যায়নি। অথচ বিএনপির মতো একটি বড় দলের এত নেতা থাকতেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে দলের চেয়ারপারসনকে।
তাদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করেছেন। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেউ কোনো কাজে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশি গেলে সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম উঠিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। এখন বিরোধী দলে এসেও নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এসব নেতা। কর্মীদের প্রতি কোনো খেয়াল রাখছেন না তারা। জেলে গেলে কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করছেন না। জেলে যাওয়ার ভয়ে পালিয়ে থেকে আরাম-আয়েশে সময় পার করছেন। যখন দেখবে সরকার আর টিকতে পারছে না তখন আবার ফিরে এসে হম্বিতম্বি করবেন। আর ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী-এমপি হয়ে আরাম-আয়েশ করবেন এই আশায় রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here