বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে নারী নেত্রীরা

48

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন দলের নারী নেত্রীরা। তারা সিলেকশনের পরিবর্তে সরাসরি ইলেকশনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র জানায়, ওয়ান ইলেভেন প্রেক্ষাপটে দলের অনেক হেভিওয়েট নেতা আইনি জটিলতায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় তাদের স্ত্রী ও স্বজনরা অংশ নেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এসব নেতার তেমন আইনি জটিলতা না থাকায় প্রার্থিতার তালিকায় নারীর অংশগ্রহণ কমার কথা থাকলেও ক্ষমতায়নের রাজনীতিতে এর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
বিগত নির্বাচনে বিএনপির ব্যানারে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনসহ মোট ১৩টি আসনে সরাসরি নারী নেত্রী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। এর মধ্যে চেয়ারপার্সনের আসন ছাড়া অন্যান্য আসনে তেমন কোনো সফলতা না থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারী নেত্রীদের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়বে বলে দলীয় সূত্র জানায়। এ জন্য ইতিমধ্যে তারা এলাকায় গণসংযোগসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রের সঙ্গে শুরু করেছেন দেন-দরবার। হাইকমান্ডের সঙ্গে লবিং-তদ্বিরের সঙ্গে সঙ্গে জোরালো করছেন মনোনয়নের নিশ্চয়তা। আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়ার কারণ হিসেবে দলের সংরক্ষিত আসনের এমপি শাম্মী আক্তার বলেন, সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে এবং এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান অবস্থানে কাজের ক্ষেত্রটা অনেক সংকুচিত। আসলে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নিয়মটা একটা শুভঙ্করের ফাঁকির মতো। এখানে রাজনীতির মানসিক স্যাটিসফেকশন তৈরি হয় না।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বগুড়া ৬, ৭ এবং ফেনী ১ আসন থেকে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নির্বাচন করে প্রত্যেকটিতে জয়লাভ করেন। নাটোর ২ আসন থেকে দলের স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমীন নির্বাচন করে পরাজিত হন। এবারও আইনি জটিলতায় রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তার স্ত্রী (সাবিনা ইয়াসমীন) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ-২ আসনে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেন। আগামীতে ইকবাল হাসান মাহমুদের আইনি জটিলতা না থাকলে তার (রুমানা মাহমুদ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে না বলে জানা গেছে।
বরিশাল-৩ আসন থেকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝালকাঠি-২ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তিনি নির্বাচনে পরাজিত হলেও এলাকায় তার জনপ্রিয়তার কারণে আগামী নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তবে একই নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারী নেত্রী জিবা খান মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় এ আসন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারী নেত্রীদের যে কোনো একজন মনোনয়ন পাবেন বলে নিশ্চিত রয়েছেন নেতাকর্মীরা। সাবেক এমপি এম রাশেদুজ্জামান মিল্লাতের বিরুদ্ধে মামলা জাটিলতার কারণে বিগত নির্বাচনে সাহিদা আক্তার রিতাকে মনোনয়ন দেয়া হলেও আগামী নির্বাচনে সাবেক আইজিপি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম কাইয়ুমকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে এলাকার নেতাকর্মীরা জানান। সে ক্ষেত্রে এ আসন থেকে নারী নেত্রীর মনোনয়ন অনেকটা অনিশ্চিত।
মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। এবারও তার মনোনয়ন নিশ্চিত বলে জানা গেছে। ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত নেত্রী ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরীন সুলতানা। এবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন দলের প্রয়াত মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান। মাদারীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেত্রী হেলেন জেরীন খান। এলাকায় তার কোনো গণসংযোগ না থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন তার সমর্থকরা।
কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ। আগামী জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর আইনি জটিলতা না থাকলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে না বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। এ সব আসনের পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনে একাধিক আসনে নারী নেত্রীরা মনোনয়নের চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের এমিপিরা আগামীতে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাইছেন। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রদল নেত্রী, ওয়ান ইলেভেনের পরীক্ষিত এবং সংসদ ও সংসদের বাইরে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় অংশগ্রহণকারী শাম্মী আক্তার এমপি আগামীতে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাইছেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে হবিগঞ্জ সদর আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে নেতাকর্মীরা জানান। এছাড়া এ আসনে দলের তেমন কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় তার মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে জানান নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় নিজের একটি আলাদা ইমেজ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। গণসংযোগ আর নেতাকর্মীদের পাশে অবস্থান করায় এ আসনের বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এখন তুঙ্গে বলে মনে করছেন কর্মীরা। এছাড়া বিএনপির নিখোঁজ সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর পত্নী তাহসিনা রুশদির লুনা এবার দলের টিকিটে নির্বাচন করছেন বলে নিশ্চিত এলাকার নেতাকর্মীরা। দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বেগম খালেদা রব্বানী মৌলভীবাজার জেলার যে কোনো একটি আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনের এমপি বেগম নিলোফার চৌধুরী মনি জামালপুর-৫ আসন থেকে, এমপি সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে এবং ঢাকা মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী ও সাবেক এমপি সুলতানা আহম্মদ ঢাকা-২০ আসন থেকে এবং দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন পিন্টু দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় এবার ঢাকা-৭ আসন থেকে তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সম্প্রতি বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানকারী শিল্পী কনক চাঁপা সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। কণ্ঠের আরেক জাদুকর বেবী নাজনীন আগামী নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here