বি,এন,পির নেতা কর্মিদের দল ত্যাগ ,সারা দেশের বি,এন,পি অফিস প্রাণহীন ,নেতা-কর্মী শূন্য।

204

Report

প্রাণহীন বিএনপি অফিস

বদলে গেছে বিএনপি অফিসের চিরচেনা দৃশ্যপট। গত বছরের পাঁচ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রাত্যহিক গন্তব্য ছিলো রাজধানীর ২৮/১ নয়াপল্টন। তখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় আর তার উল্টোপাশে ভাসানী ভবনের মহানগর কার্যালয় থাকতো শত শত নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখরিত, প্রাণবন্ত। সন্ধ্যার পর নয়াপল্টনের ভিআইপি সড়কটিতে জনারণ্য হয়ে ওঠায় যানজট লেগে যেতো। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের মিলনমেলা বসতো। কিন্তু সেই চিরচেনা ছবিটা এখন অদৃশ্য।

বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং মহানগর কার্যালয় বর্তমানে প্রায়  নেতাকর্মী শূন্য, নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে। কার্যালয়ে যান না কোন সিনিয়র নেতা। সংবাদ সম্মেলনের সময় কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত হলেও সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর পরই তারা কার্যালয় ত্যাগ করেন। দলের ঢাকা মহানগর অফিসের অবস্থা বেশ করুণ। সেখানে তালা ঝোলে প্রায় সময়। কোন নেতাকর্মীর পা পড়ে না সেখানে।

 

দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতা এখনো আত্মগোপনে। কেউ কেউ জেলে আছেন।আবার কেউ কেউ দল ত্যাগ করছেন। কোন কর্মসূচি নেই, নির্দেশনাও নেই। পার্টি অফিসে কোন কাজ নেই। এছাড়া প্রায় সব নেতার নামে মামলা। তাই গ্রেফতার এড়াতে তারা পার্টি অফিস এড়িয়ে চলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিস ভবনেই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। অঙ্গ দলের নেতারাও যান না। কেউ কেউ গেলেও ক্ষণিকের জন্য। আবার গা ঢাকা দেন।

সর্বশেষ চলতি বছর ৩ জানুয়ারি নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আটক করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়। টানা তিন মাস আন্দোলন শেষে তিন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় নয়াপল্টন কার্যালয় ঘিরে থাকা সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় মূল ফটকের তালা কেটে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি নেতারা। এরপর থেকে অফিস স্টাফরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলছেন নিয়মিত। তবে স্বাভাবিক হয়নি নেতাকর্মীদের আনাগোনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচতলা এই ভবনের প্রথম তিনটি ফ্লোরে বিএনপির কার্যালয়। তিন তলা খোলা থাকলেও ২য় তলার দরজা বন্ধ। ৪, ৫ তলায় থাকা দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অফিসও তালাবদ্ধ। কার্যালয়ের নিচ তলায় বিএনপির লোগো ব্যাজ, ক্রেস্ট, বই ও পতাকা বিক্রির দোকানটি খোলা হয় প্রতিদিন। এক অফিস স্টাফ বললেন, ‘কার্যালয়ে কোন নেতা আসেন না। ব্রিফিং থাকলে মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর জন্য কিছু নেতাকর্মী আসেন, শেষ হলেই চলে যান।’

কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, কার্যালয় প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত ৯টা/১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। নেতাকর্মীদের আসতে যেতে কোনো বাধা নেই। তবে তারা খুব কমই আসে। ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘মহানগর নেতারা প্রকাশ্যে আসতে না পারায় তালা খুলেও লাভ নাই। বিশেষ প্রয়োজনে কোন নেতা আসলেও বেশীক্ষণ থাকেন না। গ্রেফতার আতংক সবার মধ্যে।’

এদিকে বিএনপির গুলশান অফিস সূত্রে জানা যায়, এই পরিস্থিতি কেবল রাজধানীতে নয়, আন্দোলন চলাকালে দেশের ৪৪ জেলার কার্যালয়ও তিন মাসের বেশি সময় তালাবদ্ধ ছিলো। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খোলার পর জেলা অফিসগুলোর তালাও খুলতে শুরু করে। এখন অফিস ‘এই বন্ধ-এই খোলা’ অবস্থায় থাকলেও গ্রেফতারের আশঙ্কায় সেখানে যান না নেতাকর্মীরা। এমনও উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কার্যালয় আছে যেগুলোর গেট খোলা হয় না দেড় বছর ধরে। অবশ্য এই পরিস্থিতির মধ্যে বিপরীত চিত্রও আছে। তিন মাসের আন্দোলনের সময়ও তালা লাগেনি ১১ জেলার পার্টি অফিসে। সেখানে নেতাকর্মীদের পদচারণাও ছিলো, এখনও আছে। জেলাগুলো হলো: ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাট, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, পাবনা, রাজবাড়ী, পিরোজপুর ও ফরিদপুর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে দলীয় কার্যালয়। সেখানে বসেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, তিন মাস ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিলো। দেশের অধিকাংশ জেলার অফিসও তালা মারা ছিলো। অফিসগুলো খুললেও নেতাকর্মীরা গ্রেফতার ভীতির কারণে কার্যালয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য এই অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here