বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ : দলীয় কার্যালয়ে আগুন, আহত ১০ ।

13

bnpময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেল ৫টায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ঘটে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহীনের বাড়িতে তৃণমূল নেতাদের ভোটিং-এ স্বজনপ্রীতির অভিযোগে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। এতে উভয় পড়্গের ১০জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে এক প্রার্থীর সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে উপজেলা বিএনপির চরনিখলাস্থ দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘক্ষণ চষ্টোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিন ফরিদ (২৭), সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু (২৫), যুবদল নেতা মঞ্জুরুল হক (৩৫), বকুল (৩২) ও কামাল (৩৪)। পরে তাদের দ্রুত ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রিয় নির্দেশনা অনুযায়ী একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য শনিবার বিএনপির সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ নুরুল কবীর শাহীনের বাড়িতে তৃণমুল নেতাদের নিয়ে এক সভা আহ্বান করা হয়। এতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৫ পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও ২ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্য থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ছিলো। কিন্তু গত বুধবার একই ধরনের সভায় এমপি শাহিন তাঁর পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইলে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সে দিন তিনি ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান জয়পুরীর হাতে লাঞ্চিত হন। শনিবারের সভায় একই ঘটনার পুনারবৃত্তি ঘটলে ভোটাভোটি বর্জন করেন ৬ প্রার্থী। এতে অংশ গ্রহণ করেন শুধু এমপি শাহীনের পছন্দের সেই প্রার্থীরা। আর ওই সময়েই প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম ভূঞা মনির সমর্থক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহীন ফরিদ জানান, আমরা ভোটাভোটিতে অংশগ্রহণ করতে গেলে এমপি শাহীনের লোকজনের বাঁধা দেয়। একপর্যায়ে ভুয়া ভোটারদের ভোট প্রদানে আপত্তি করা হলে এমপির সমর্থকরা আমাদের ওপর চড়াও হয়।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একে এম হারুন অর রশিদ জানান, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করে তৃণমূল সভা বন্ধে উদ্যোগ নিতে আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে ওসি কামরুল ইসলাম জানান, দলের সভাপতি পুলিশের কাছে কোনো আবেদন করেননি। তাই পুলিশ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ ব্যাপারে সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ নুরুল কবীর শাহীনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত রয়েছে। পৌরশহরে এ নিয়ে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা করছে লোকজন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্তি পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে থানা পুলিশ জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here