বিএনপিকে সর্বদলীয় সরকারের আসার আহ্বান ‘বলুন, কোন কোন মন্ত্রণালয় চান’

14

527bab4059860-Parliament-2প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহাজোট সরকারের সাংসদেরা। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় তাঁরা এ আহ্বান জানান।
তার আগে সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী মন্ত্রিসভায় নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অভিনন্দন জানান।
আলোচনায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার একটি নতুন অবদান। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বিরোধী দলের উচিত এ সরকারে অংশগ্রহণ করা। বিরোধীদলীয় নেতারা বলুন, কোন কোন মন্ত্রণালয় চান। আপনাদের সামনে দুটি পথই খোলা। একটি হচ্ছে বোমা-ককটেল ফাটিয়ে নিজেদের জনবিচ্ছিন্ন করা। অন্যটি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা। সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে রাজপথে ককটেল-বোমা মেরে মানুষের প্রাণ সংহার না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। এটি করতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
চিফ হুইপ আবদুস শহীদ বলেন, বিরোধী দল নির্বাচন প্রতিহতের নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চায়। সংসদে না এসে তারা সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক তত্পরতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে তারা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি।
জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সর্বদলীয় সরকার গঠিত হয়েছে। অনেকে আছেন সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা বলেন। তাঁরাও উপলব্ধি করতে পেরেছেন, নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলে তারা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে।

সরকারি দলের ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় সরকার শপথ নিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা গণতন্ত্র হত্যা ও নির্বাচন বানচাল করতে চান। মানুষের রক্তে তিনি কেন গোসল করতে চান? রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোনো কিছু আদায় হবে না। কিছু চাইলে তাদের সর্বদলীয় সরকারে আসতে হবে। সর্বদলীয় সরকারে তাদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, নাম দিন, শপথ নিন।

স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম বলেন, ‘সর্বদলীয় মন্ত্রিপরিষদ এটি হয়নি। আশা করি, আগামীতে হবে। এই মন্ত্রীদের কাছে জাতির প্রত্যাশা, দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করবেন। সমগ্র জাতি চায় উত্সবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার আগুন জ্বলছে। প্রতিহিংসার দাবানলে দেশ আজ কুয়াশাচ্ছন্ন। দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থে কালক্ষেপণ না করে সৃষ্ট সংকটের সমাধান করতে হবে।’

নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন ও প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক অধিবেশন যোগ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here