বাধ্য হলেই ক্রিমিয়ায় সেনা অভিযান চালাব :পুতিন

20

rus

ইউক্রেনের সেনাদের হঠিয়ে দিতে রুশ বাহিনীর ফাঁকা গুলি

 

 

বাধ্য হলেই কেবল ক্রিমিয়ায় সেনা অভিযান চালাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র ও সমালোচনার মুখে তিনি আপাতত ইউক্রেনের ক্রিমিয়াতে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ক্রিমিয়ার সীমান্তে অবস্থান করা রুশ সেনাদের নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইউক্রেন নীতি নিয়ে নিজের অবস্থানকে সঠিক বলে দাবি করেছেন তিনি।

পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে আপাতত সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র শেষ অস্ত্র হিসাবেই রাশিয়া এ ব্যবস্থা নিবে। মঙ্গলবার মস্কোয় রাষ্ট্রীয় বাসভবনের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন একথা বলার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তাভাবনা উল্টো ফল বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেন। গতকালই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ইউক্রেন অভিমুখে রওয়ানা হবার কালে পুতিন এসব কথা বলেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের ক্ষমতাচ্যুতিকে ‘সংবিধানবিরোধী ক্যু’ বলে আখ্যা দেন পুতিন। রাশিয়ার মিত্র ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতা হারালেও তাকে এখনো দেশটির বৈধ নেতা বলে পুতিন দাবি করেন। এর আগে গতকাল রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে সেনাদের ঘাঁটিতে ফেরার নির্দেশ দেন পুতিন।

গত সপ্তাহান্তে পুতিন রুশদের স্বার্থ রক্ষায় ইউক্রেইনে আগ্রাসন চালানোর অধিকার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু রাশিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সামরিক মহড়া থেকে পূর্ব-ইউক্রেনের রুশভাষী অঞ্চলে রাশিয়ার সেনা পাঠানোর আশঙ্কা বেড়েছিল। পুতিনের সর্বশেষ নির্দেশে ইউক্রেনে রাশিয়ার আসন্ন হামলার আশঙ্কা কমলেও ক্রিমিয়ায় রুশ ও ইউক্রেনের সেনাদের মধে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ক্রিমিয়ায় মোতায়েন ইউক্রেনের সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল রাশিয়া। যদিও মস্কো এ ধরনের কোনো আল্টিমেটাম দেয়ার কথা অস্বীকার করে এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের অনুরোধেই ইউক্রেইনে সেনা পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, রুশ-ভাষীদের রক্ষায় ইয়ানুকোভিচের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তার দেশ সাড়া দিয়েছে। ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ করার কোন ইচ্ছা রাশিয়ার নেই। ক্রিমিয়া দখল করার কোন ইচ্ছাও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বজুড়ে এই আশঙ্কা দানা বাঁধছিল যে ইউক্রেনে যে কোন মুহুর্তে সামরিক সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে।

এদিকে গতকাল ক্রাইমিয়ার সেভাস্তোপলের কাছে একদল নিরস্ত্র ইউক্রেনীয় সেনা ইউক্রেনের পতাকা নিয়ে বেলবেক বিমানঘাঁটির দিকে যাবার চেষ্টা করলে রুশ সেনারা তাদের লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে ইউক্রেনের সেনারা সেদিকে আর অগ্রসর না হওয়ায় উত্তেজনা প্রশমন হয়। ইউক্রেনের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলো এখনো রাশিয়ান সৈন্যরা দখল করে রেখেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here