বাকৃবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মিছিল প্রশাসন ভবনে তালা সায়াদ হত্যা :গ্রেফতার ৪

65

BKUবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মমতাজের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও আজীবন ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবার আন্দোলনে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। গতকাল সকাল থেকে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে মিছিল ও প্রশাসন ভবন তালা দিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন এবং খুনিদের প্রতীকী ফাঁসির আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সায়াদ হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মমতাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাকৃবির আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় কুমার কুন্ডু ও একই হলের ছাত্রলীগ কর্মী রোকনুজ্জামান রোকনকে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের ব্রিজ মোড় এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়া গতকাল ক্যাম্পাস থেকে ডিবি পুলিশ অপর দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন শহীদ শামসুল হক হলের আনিসুজ্জামান ওরফে জনি ও ঈশা খাঁ হলের নাহিদ হাসান ওরফে মিঠু।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সায়াদ ইবনে মমতাজের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে গতকাল বুধবার সকারে সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মিছিল ও প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোন অনুষদে ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এসময় প্রশাসন ভবনে প্রায় ২ ঘন্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ভবনের জানালার কয়েকটি কাঁঁচ ভেঙ্গে যায়।

এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকরা সাধারণ সভা করে সায়াদের খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দাবি না মানা পর্যন্ত অনুষদের শিক্ষকরা কোন ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা নেবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল প্রশাসন মামলা করলেও তাতে কারো নাম বা সংখ্যা দেয়া হয়নি। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেলা ১টার দিকে শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সোনালী দল’। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে ছাত্রলীগ বাকৃবি শাখা ক্যাম্পাসে সাংবাদিক সমিতিতে একটি সংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে বলা হয়, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সুযোগসন্ধানী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদি হয়ে হত্যাকাণ্ড মামলা করেছে।

প্রসঙ্গত, ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে দ্বন্দ্ব, আসন্ন ছাত্র সমিতির নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হলের ছাত্রলীগ নেতা সুজয় কুমার কুন্ডু ও রোকনুজ্জামানসহ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সোমবার রাতে একই হলের ছাত্রলীগ নেতা সায়াদকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ট্রমা সেন্টারে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সায়াদ মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here