বাংলাদেশে ইবোলা শনাক্তের ব্যবস্থা নেই, এখনই পদক্ষেপ জরুরি

13

newsবিশ্বব্যাপী মারাত্মক ঘাতক ইবোলা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের এখনো পর্যন্ত কোনো তত্পরতা নেই। এই প্রাণঘাতী ‘ইবোলা ভাইরাস’ শনাক্ত করার কোনো ধরনের ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই দেশের স্বাস্থ্য বিভাগে। এমনকি এই ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করারও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ আফ্রিকার যে সব দেশে এই ঘাতক ভাইরাসটি প্রায় হাজার জীবন কেড়ে নিয়েছে, সে সব দেশে বাংলাদেশের সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর প্রচুর সংখ্যক সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীরা কর্মরত আছেন। এ ছাড়া, অনেকেই প্রাণভয়ে আফ্রিকার ইবোলা উপদ্রুত অঞ্চল থেকে দেশে ফিরছেন। এ কারণেই এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি সম্পর্কে জানা এবং এর প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন মহাখালীস্থ রোগতত্ব প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক আহমদ ইত্তেফাককে জানান, শিগগিরই ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে তারা একটি সভা করার উদ্যোগ নেবেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এই ভাইরাসটি পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে মাসাধিককালের মধ্যে দেশে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে দেশে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য বিভাগের করণীয় কিছুই নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।

এ দিকে, ইবোলা ভাইরাস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের অনেক পরাশক্তিকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এরই মধ্যে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি লাইবেরিয়া, সিয়েরালিওন, নাইজেরিয়া, গিনিসহ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে আঘাত হেনেছে। গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে পনর সহস্রাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু ঘটেছে ৯ শতাধিক লোকের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মৃত্যুহার শতকরা ৫০ ভাগের বেশি। এই ঘাতক ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে সুদান ও কঙ্গোতে। তখন দেশ দুটিতে আক্রান্ত ৬০২ জনের মধ্যে ৪৬১ জনের মৃতু ঘটে। এরপর ১৯৯৫ সালে কঙ্গোতে, ২০০০ সালে উগান্ডায়, ২০০৭ সালে কঙ্গো ও উগান্ডায় এবং ২০১৪ সালে সিয়েরালিওন, গিনি, লাইব্রেরিয়া ও নাইজেরিয়ায় মোট আক্রান্ত প্রায় পনর হাজার এবং মৃত্যু ঘটেছে ৯ শতাধিক লোকের।

তবে আশার কথা হলো—রোগটি ফ্লু ও অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগের মতো ছড়ায় না, আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে না আসলে রোগটি সংক্রমিত হবার ভয় নেই। তবে ইবোলা আক্রান্তদের উপসর্গ বা রোগের লক্ষণ খানিকটা ফ্লু আক্রান্তদের মতো। তীব্র মাথা ব্যথা, জ্বর, শরীর ব্যথা, ত্বকে র্যাশ বা দানা-দানা ওঠা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ডায়রিয়া ও বমি হতে পারে। এই ভয়াবহ ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির লিভার, কিডনি, হার্ট অকেজো করে দেয়ার মতো ক্ষমতাধর। তবে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে—এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি। নেই কোনো কার্যকর ওষুধও।

এ দিকে, ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিত্সার যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রধান ড. থমাস ফ্রাইডেন ইবোলা ড্রাগ নিয়ে অতি আশা না করার পরামর্শ দিয়েছেন। আফ্রিকায় আক্রান্ত দুজন মার্কিন নাগরিকের ইবোলা আক্রান্ত হবার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়—তাদের দেশে আনা হয়েছে এবং তাদের উন্নতি হচ্ছে। ড. ফ্রাইডেন মনে করেন দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত, আইসোলেশন এবং রোগের লক্ষণ সমূহের দিকে যথাযথ নজর দেয়া সবচেয়ে বড় কাজ।

এ দিকে, অতি সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছেন এমন একজন চিকিত্সক জানান, আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্ত দেশ সমূহে বাংলাদেশিরা উদ্বিগ্ন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হচ্ছে ব্যাপক সংখ্যক সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যগণ ইবোলা উপদ্রুত অনেক দেশে আছেন। তাই এই মুহূর্তে ইবোলা ভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন। দেশে একটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থাকলেও তারা ব্যস্ত থাকেন অন্য ধরনের প্রচারণায়। জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুারোকে কাজ করা উচিত এমন অভিমত একাধিক সূত্রের।

সুত্র ইত্তেফাকঃ-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here