বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মোদী

30

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

জনতার নিউজ ডেস্কঃ-

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পররাষ্ট্রনীতিতে আরো একটি চমকপ্রদ পদক্ষেপ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে দু’দিনের সফরে ঢাকা পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন না হলে, দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই হবে সুষমার প্রথম একক বিদেশ সফর। সুষমার হাত দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণপত্রও পাঠাবেন নরেন্দ্র মোদী। নতুনন সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মোদী। গতকাল শনিবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের সময় সার্ক দেশের রাষ্ট্রনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বেনজির একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই মিনি-সার্ক শীর্ষ বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠেছিল, অতঃপর? উত্তরের জন্য অবশ্য পক্ষকালও কাটাতে হল না। বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে বকেয়া সমস্ত বিষয় নিয়ে শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্তাদের সঙ্গে তার সফরে বিস্তারিত আলোচনা করবেন সুষমা। এখনও অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সফরের কথা ঘোষণা করেনি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরুদ্দিন জানিয়েছেন, বিদেশনীতিতে প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জুন মাসে তার প্রথম সফরে ভুটানে যাচ্ছেন। তারপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাবেন প্রতিবেশি আর একটি রাষ্ট্রে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সমপ্রতি বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন মোদী। বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি সংগঠন, আইএসআই এবং জামায়াতে ইসলামীর ভারত-বিরোধী রাজনীতির স্বরূপটি ঠিক কী, সেটাও বুঝে নিতে চেয়েছেন। মোদী পররাষ্ট্রমন্ত্রলায়য়ের সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন, ঢাকার মাটি মৌলবাদী শক্তির হাতে চলে গেলে ভারতেরই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির দমনে গত পাঁচ বছরে ঢাকা যে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোন-আলাপে মোদী তার প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে যাতে এই ভূমিকা অক্ষুন্ন থাকে, তিনি সেই অনুরোধও করেন শেখ হাসিনাকে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আসা স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে মোদীর আলোচনাতেও বকেয়া দু’টি চুক্তি প্রাধান্য পেয়েছে। শিরীন জানিয়েছেন, দু’দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে এই দু’টি চুক্তির বাস্তবায়ন জরুরি। মোদী বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে বিবেচনা করবেন বলেই কথা দিয়েছেন। পররাষ্ট্রসচিব পরে বলেন, নিরাপত্তা, শক্তি ও সীমান্ত সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে ঢাকা যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, বৈঠকে তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই চুক্তি দু’টি রূপায়ণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সুষমা স্বরাজকে নির্দেশ দেন মোদী। তবে চুক্তি দু’টির দিনক্ষণ নির্ধারণ করে আসা সুষমার সফরের উদ্দেশ্য নয় বলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছেন। কিন্তু এই বিষয়গুলি নিয়ে যে নতুন সরকার আন্তরিক, সে কথাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করবেন তার ঢাকা সফরে। মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তিস্তা চুক্তি করতে পারেননি মনমোহন সিংহ। স্থল-সীমান্ত চুক্তিতে নীতিগত ভাবে রাজি ছিলেন লালকৃষ্ণ আদভানি এবং অরুণ জেটলির মতো বিজেপি নেতারা। কিন্তু দলের অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ শাখার আপত্তিতে চুক্তিটি আটকে যায়। ওই চুক্তির জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। বিজেপি বেঁকে বসায় এর জন্য প্রয়োজনীয় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করে উঠতে পারেনি মনমোহন সরকার। সুষমার ঢাকা সফরের পর রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গেও এ বার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবেন মোদী।

2 COMMENTS

  1. ডেইলি জনতা নিউজ এর সংবাদ প্রচারে নিরপেক্ষ ভুমিকা বজায় রেখে ষোল কোটি জনতার মন চাহিদা জয় করবে।
    সাথে সাথে অনলাইন সুবিধায় বিশ্ববাসী কাছে বাংলাদেশের মান উজ্জল করবে এই প্রত্যাশা করছি- ধন্যবাদ।

  2. ডেইলি জনতা নিউজ এর সংবাদ প্রচারে নিরপেক্ষ ভুমিকা বজায় রেখে ষোল কোটি জনতার মন চাহিদা জয় করবে।
    সাথে সাথে অনলাইন সুবিধায় বিশ্ব-বাসী কাছে বাংলাদেশের মান উজ্জল করবে এই প্রত্যাশা করছি- ধন্যবাদ।

    অামি জনতার নিউ জের সকল পাঠক পাঠিকার প্রতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here