বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চান মোদী

21

ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে সুর চড়ালেও প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়তে চান ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই ‘লুক ইস্ট’ নীতিতে জোর দিচ্ছেন তিনি। সেই অনুযায়ী প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর করতে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নজর দিতে বলেছেন তিনি।

বৈদেশিক ব্যবসা সমপ্রসারণে আগেই লুক ইস্ট নীতি নিয়েছিল ইউপিএ সরকার। সেই অনুসারে বাংলাদেশসহ ভারতের পূর্বে অবস্থিত মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের মত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মধুর করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সায় না দেয়ায় ২০১১ সালে চুক্তি দুটি হতে পারেনি। এর কারণে সম্পর্ক নষ্ট না হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব যে পর্যায়ে যাওয়া উচিত ছিল, তা হতে পারেনি।

নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনী জনসভাগুলোতে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ঝড় তুলেছিলেন মোদী। তিনি বলেছিলেন, ১৬ মের পর বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে। মোদী ঘনিষ্ঠ বিজেপির এক শীর্ষ নেতা  সাংবাদিকদের বলেছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুর আর প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক- দুটো ভিন্ন ইস্যু। দুটোকে এক করে ফেলতে চান না মোদী। তাই প্রধানমন্ত্রী হয়েই তিনি নজর দিতে চান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে। নির্বাচনের আগে সাক্ষাত্কারেও সেকথা তিনি বলেছেন।

সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, সেই কারণে তত্পরতা শুরু হয়েছে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে কি কি জটিলতা আছে তা তালিকাবদ্ধ করার। এর পরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনায় বসে সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজা।

একই সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়েও সমাধানের পথ খুঁজছেন তিনি। যদিও সেই পথ খুঁজতে ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন আছে। লোকসভায় বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ভারতের আইনসভা অর্থাত্ রাজ্যসভায় ২৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপির একক শক্তি ৪৬ জনের। এনডিএর ৬০ জনের। লোকসভায় আইনটি পাস করতে দুই-তৃতীয়াংশের অর্থাত্ ৩৬২ জন এমপির সমর্থন দরকার। এনডিএ-র রয়েছে ৩৩৬ জন। বাকি ২৬ জনের সমর্থন পেতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ কংগ্রেস আগেই এই ইস্যুতে সহমত ছিল। রাজ্যসভায় দরকার ১২১ জনের সমর্থন। বিজেপির আশা সেখানেও কোনো সমস্যা হবে না। কারণ কংগ্রেস ছাড়াও মিলতে পারে বামেদের সমর্থনও। রাজ্যসভায় কংগ্রেসের ৭৪ এবং বামেদের ১১ জন এমপি রয়েছেন। একই সঙ্গে না হলেও তিস্তা চুক্তির পথ খোলার পর স্থল সীমান্ত চুক্তি নিয়েও অগ্রগতি ঘটাতে চান ভাবী প্রধানমন্ত্রী।

কেন দ্রুত এই উদ্যোগ? বিজেপি সূত্রে খবর, ভারতীয় পণ্যের বড় বাজার বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসা-বাণিজ্যে। তাই ভারত চায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ভালো করতে। আরো একটি বিষয় রয়েছে, সেটি হলো ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ইস্যু। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে তার সুযোগ নিতে পারে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো। যা ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর জন্য খারাপ হতে পারে। সেই কারণেই সরকারের কার্যক্রম শুরুর আগেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাঠানোর প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের। যাতে এই বার্তা দেয়া যায় যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই চায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here