বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবই হয়েছে আওয়ামী লীগের হাত ধরেই, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

74

জনতার নিউজ

আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি জাতি যা কিছু পেয়েছে এবং বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। তাই অতীতে বার বার আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে, ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে বলেই বার বার আঘাত ও ভাঙার চেষ্টা করার পরও কেউ সফল হয়নি। যতবার এই দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই আওয়ামী লীগ আরও দৃঢ় উজ্জ্বলতর হয়ে জনগণের সামনে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত ও শক্তিশালী হয়েছে। তাই যতই ষড়যন্ত্র হোক, আঘাত আসুক, নীতি-আদর্শ নিয়ে পথ চলা আওয়ামী লীগের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি, পারবেও না ইনশাল্লাহ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের শিকড় এতোই গভীরে যে, ইস্কান্দার মির্জা থেকে শুরু করে ইয়াহিয়া-জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া বারবার আওয়ামী লীগকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তারা পারেননি। উপরের নেতারা মাঝে মাঝে কিছু ভুল করেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা কখনো ভুল করে না। তাই আগামীতেও আওয়ামী লীগের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। সততা নিয়ে রাজনীতি করার জন্য দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে একজন নেত্রী ইফতারের সময় প্রতিদিনই অজস্র মিথ্যাচার করে চলেছেন। অথচ উনি ক্ষমতায় থাকতে দেশের জন্য কিছুই করেননি। বরং নিজেদের বিলাস-ব্যসনে ব্যস্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা ভোগ বিলাসেই মত্ত থেকেছে। দেশের মানুষের কথা ভাবেননি। দেশকেও কিছু দিতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শুধু দলের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, আমাদের দেশে অনেকেই মন্ত্রী হওয়ার লোভে দল ত্যাগ করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমার চাওয়া-পাওয়া বা হারাবার কিছু নেই। যে দেশের জন্য আমার বাবা-মা ও ভাইরা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই দেশের মানুষের জীবনের ভাগ্যের পরিবর্তন, কল্যাণ ও হাসি ফোটানোই আমার রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগকে জনগণের অধিকার আদায়ে চার চারটি সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আত্মোত্সর্গ করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের সেই ইতিহাস নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবোই ইনশাল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে একাত্তরের গণহত্যাকারী, পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় পুনর্বাসন করেন জেনারেল জিয়া। জিয়া যেমন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধানমন্ত্রী-উপদেষ্টা-মন্ত্রী বানিয়েছেন, তার স্ত্রীও বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশিদকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। আর এইচ এম এরশাদও কম যাননি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দেয়া ছাড়াও এক খুনিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী পর্যন্ত করিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ধারায় ফিরে আসে।

আলোচনা সভায় ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যেই সারাবিশ্বের মধ্যে একটি অন্যতম অগ্রসর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগ চার চারটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনা যদি প্রধানমন্ত্রী না হতেন তবে কোনদিন বঙ্গবন্ধুর খুনি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। স্বপ্নের পদ্মা সেতু কোনদিনই হতো না। তিনি বলেন, দেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আজ হতাশ। তাই অগ্রযাত্রা রুখতে ষড়যন্ত্র করছেন।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীন পতাকা আমাদের দিয়ে গেছেন, তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে তা গর্বের মতো মাথা উঁচু করে পত্ পত্ করে উড়ছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা যে পতাকা তারে দিয়েছ, বহিবার শক্তি দাও তারে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পৃথিবীর সব শক্তিধর দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন। আর সারাদেশের মানুষের কণ্ঠে এখন একই আওয়াজ- ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’। ২০১৯ সালে আগামী নির্বাচনেও খালেদা জিয়াকে পরাজিত করে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।

আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। শুরুতেই আওয়ামী লীগের ৬৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে দলের জন্য আত্মত্যাগকারীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করুন’

এর আগে জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রম নেয়ায় বাংলাদেশে আজ শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুরক্ষিত করেছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে এই অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here