বাংলাদেশিদের ইরাকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

13

iraqগত মঙ্গলবার বিকালে র্যাব-২ মোহাম্মদপুর ও ফকিরাপুলে অভিযান চালিয়ে আব্দুল জব্বার খান (৪৭) ও এসএমএ মান্নান ওরফে জাহাঙ্গীর (৩৫) নামে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে।

র্যাব-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দীন খান জানান, আব্দুল জব্বার খান বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়া, দুবাই ও ইরাকে ছিলেন। বাংলাদেশি কিছু অসাধু ট্র্যাভেল ও রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তিনি কয়েকজনকে ইরাকে পাঠান। আব্দুল জব্বার খান ২০১১ সালে ইরাকে এক বাংলাদেশি নারীসহ অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে ৩৪ দিন জেল খাটেন। জাল ভিসা, গলাকাটা পাসপোর্ট, ভুয়া ভিসার স্টিকার, ওয়ার্কিং ভিসার নামে ভ্রমণ ভিসায় লোক পাঠানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইরাকে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের কাছে জব্বার খান ‘চিটার খান’ নামে পরিচিত। ইরাকী মিনিস্ট্রি অব ফরেন এ্যাফেয়ার্স তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে এবং অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তার মত এরূপ আরো ৭ বাংলাদেশিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

র্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, তাদের জালিয়াতির মধ্যে রয়েছে ভিসা হওয়ার পর প্রথমেই ফকিরাপুলের বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেস হতে ভিসার একাধিক নকল কপি তৈরি করা এবং ভিসার বিপরীতে থাকা ব্যক্তির পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে রিপোর্ট করা। পরবর্তীতে আসল ভিসাসহ ২/৩টি নকল ভিসা তৈরি করে একই নাম দিয়ে একাধিক ব্যক্তির ভুয়া পাসপোর্টে নকল ভিসা পেস্ট করে নাম পরিবর্তন করে। এভাবে প্রতি ভিসার বিপরীতে ২/৩ জন লোক একই নাম দিয়ে বিদেশে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়। তাছাড়াও ওয়ার্কিং ভিসার নামে লোকজনের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে পরবর্তীতে তাদেরকে ১০-৩০ দিনের ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে বিদেশে পাঠায়। ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ শেষে তারা ঐ সকল দেশে অবৈধ হয়ে যায়।

ভুয়া ভিসার মাধ্যমে লোক পাঠানোতে কিছুটা জটিলতা থাকায় এবং ঢাকা এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কিছুটা কঠোর হওয়ায় এরূপ ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট ব্যবহার করেন। এই চক্রটি চট্টগ্রামের ট্রাভেল এজেন্সীর মাধ্যমে টিকেট ও ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্ট করে ভুয়া ভিসার মাধ্যমে লোকজন ইরাকে পাঠায়। ইরাকে পাঠানোর পর ইরাকী কর্তৃপক্ষ কখনও তাদের এয়ারপোর্ট হতে ফেরত পাঠায় আবার কখনও জালিয়াতি ধরতে না পেরে তাদেরকে এয়ারপোর্ট ছাড়ার ক্লিয়ারেন্স দেয়। এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পর অসাধু আদম পাচার চক্রের প্রতিনিধিরা আগত ব্যক্তিদের গ্রহণ করে এবং তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও ওয়ার্কপারমিট কেড়ে নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। তাদেরকে দিয়ে কোন কোম্পানিতে কাজ করালেও মজুরির একটি অংশ প্রতারক চক্র নিয়ে নেয়। ২০০৯ সালে এই প্রতারক চক্রটি ইরাকের কূর্দীস্থানে ১০০ ভিসার বিপরীতে জালিয়াতি করে ৩০০ লোক পাঠায়। এছাড়াও জাল ভিসার অভিযোগে কিছুদিন পূর্বে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি বাগদাদ এয়ারপোর্টে ধরা পড়ে বাংলাদেশে ফেরত আসে এবং প্রায় একই সময়ে ইরাকের মদীনাতুল তাওয়াফ হাসপাতাল থেকে ৫০ জন বাংলাদেশি ফেরত আসে। এছাড়াও জানা যায়, এই চক্রটি নেপাল/ভুটান ইত্যাদি দেশের ভিসায় জালিয়াতি করে বাংলাদেশিদের বিদেশে প্রেরণ করে। উক্ত চক্র বিভিন্ন সময় অনেক নারীকেও বিভিন্ন ভুয়া ভিসায় ইরাকে প্রেরণ করে । এই চক্রটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের কাজ দেয়ার কথা বলে ইরাকে নিয়ে কৃতদাস হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। র্যাব এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শ্যামলীর ১নং রিং রোডের ১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুল জব্বার খান ও ফকিরাপুল এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here