বাংকার ও গর্ত ভর্তি ট্যাংক বিধ্বংসী গোলা

24

সাতছড়ির বনে ১৮৪ ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট ও ১৫৩ রকেট চার্জার উদ্ধার

 

সীমান্তবর্তী হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুটি টিলায় ভারী গোলাবারুদ ভর্তি সাতটি বাংকার ও গর্তের সন্ধান পেয়েছে র্যাব। একটি গর্ত থেকে ১৮৪টি ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট ও ১৫৩টি রকেট চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে র্যাব সদর দফতর ও র্যাব-৯ এর দুটি টিম এই উদ্ধার অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি বাংকার থেকে কিছুই মিলেনি। একটি বাংকারে র্যাব প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর চারটি গর্তের মধ্যে একটি থেকে ঐ পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। ত্রিশ ফুট গভীরের একটি গর্তে র্যাবের বোমা বিশেষজ্ঞ দল অভিযান চালায়। তবে এ গর্ত থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু উদ্ধার হয়নি। বাকি একটি বাংকার ও দুটি গর্তে আজ র্যাব অভিযান চালাবে।

সকাল ১১ টায় র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল জিয়াউল আহসান ও লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএস হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে র্যাব সদর দফতর ও র্যাব -৯ এর দুই শতাধিক সদস্য এ অভিযানে অংশ নেন। র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট সাতছড়ি ও এর সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। পর্যবেক্ষণে র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট নিশ্চিত হয় যে সাতছড়ি পাহাড়ি বনাঞ্চলের মাটির নিচে ভারী গোলা ও বিস্ফোরক রয়েছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে দুইদিন আগে থেকেই র্যাব সাতছড়ি এলাকায় গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। গতকাল সকালে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হেলিকপ্টার যোগে মাধবপুর স্টেডিয়ামে নেমে সাতছড়ি এলাকায় যান। প্রথমে র্যাব সদস্যরা টিপরা বস্তির পাশে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে সুরঙ্গের সন্ধান পান। তবে এখান থেকে কোন অস্ত্রশস্ত্র মিলেনি। পরে র্যাব সদস্যরা টিপরা বস্তির দক্ষিণ দিকে একটি টিলার গহীন অরণ্যে অভিযান চালান। এখানে র্যাব প্রথমে একটি বাংকারের সন্ধান পায়। ওপরে প্রায় এক ফুট মাটি দিয়ে ঢাকা বাংকারের ছাদ কংক্রিটের ঢালাই করা। ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য, ১৫ ফুটপ্রস্থ এবং আনুমানিক ২০ ফুট গভীরতার এই বাংকারের চারদিকের দেয়ালও কংক্রিটের ঢালাই করা। র্যাব অনেক চেষ্টা করেও এই বাংকারে প্রবেশের কোন রাস্তা তৈরি করতে পারেনি। এক পর্যায়ে তারা পাশে আরেকটি বাংকারের সন্ধান পায়। এই বাংকারের ছাদ কেটে প্রথমে টর্চ লাইট দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর মই দিয়ে অক্সিজেনের মাস্ক পরে বোম ডিসপজাল ইউনিটের ৪/৫ জন সদস্যরা ভিতরে নেমে পড়েন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে খোঁজাখুঁজির পর বাংকারে কোন অস্ত্র ও গোলাবারুদ নেই বলে ঘোষণা দেয়া হয়। পাশেই একটি গর্তের সন্ধান পেলেও এখান থেকেও কিছু মিলেনি। পরে পাশের টিলায় র্যাবের ডগ স্কোয়াড টিম ও এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র) দিয়ে পাশের টিলায় অভিযান চালায়।

সেখানে একটি স্থানে এসে গোলাবারুদ থাকার সংকেত পাওয়া যায়। গর্তটি খনন করলে পলিথিনে মোড়ানো ট্যাংক বিধ্বংসী ৪০ মিলিমিটারের ১৮৪টি আরএল গোলা (রকেট) ও ১৫৩টি রকেটের চার্জার উদ্ধার হয়। পরে র্যাব পাশে আরো একটি বাংকারের সন্ধান পায়। এই বাংকারের ভিতর ছিল ফাঁকা। মাত্র ১০ গজের ব্যবধানে আরো দুইটি গর্তের সন্ধান পায়। এদের মধ্যে একটি ৩০ ফুট গভীর গর্তের মধ্যে র্যাবের বোম ডিসপজাল ইউনিটের সদস্যদের অক্সিজেন নিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে খোঁজাখুঁজির পর বোম ডিসপজাল ইউনিট প্রাথমিকভাবে সেখানে কিছুই পায়নি।

উদ্ধার করা গোলার গায়ে কোন দেশের তৈরি তা লেখা নেই। র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান জানিয়েছেন, অন্তত এক বছর আগে গোলাবারুদগুলো সেখানে মজুদ করা হয়েছিল। গোলাবারুদের অনেকগুলোর গায়ে মরিচা পড়ে গেছে। ৪০ মিলিমিটারের এন্টি ট্যাংক রকেট (গোলা) যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের গোলা বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবহার করে না। উদ্ধার করা চার্জারগুলো রকেট লঞ্চারে গোলা ছুঁড়ে মারার জন্য ব্যবহার করা হয়।

বিকাল ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে বিকালে অভিযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একটি বাংকার ও একটি গর্তে আজ সকাল থেকে আবারও অভিযান চালানো হবে।

র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটি এম হাবিবুর রহমান জানান, বৃষ্টি ও বিদ্যুতের অভাবে বিকালে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে একটি গর্ত ও একটি বাংকারে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ না পাওয়া আগের বাংকার ও গর্তে আবারও অভিযান চালানো হবে। পার্শ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এ গোলাবারুদ মজুদ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ জড়িত তা সনাক্ত করতে র্যাবের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here