বরিশাল আদালত থেকে সাঈদীর নথি গায়েব

23

sydeদেলোয়ার হোসেন সাঈদীর একটি মামলার নথি এখানকার আদালত থেকে গায়েব হয়ে গেছে। ঐ নথি খুঁজতে এসেছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বরিশাল জেলা জজ আদালতের রেকর্ড রুমে বুধবার দিনভর খুঁজেও ঐ নথি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যান এ্যাটর্নি জেনারেল।

বুধবার সকালে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জেলা জজ আদালতের রেকর্ড রুমে দীর্ঘক্ষণ কাটিয়ে পরবর্তীতে কিছুক্ষণ আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে আবারও তিনি রেকর্ড রুমে যান। শেষ বিকাল পর্যন্ত তিনি নানান তথ্য খুঁজেছেন বলে জানা গেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি একেএম জাহাঙ্গির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এ্যাটর্নি জেনারেল সম্ভবত সাঈদীর মামলার রেকর্ড খুঁজছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৮ মে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের ব্রিজের উপর পাকসেনাদের সহায়তায় ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এই অভিযোগেই তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ইব্রাহিম কুট্টির হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে পিরোজপুর থানায় একটি মামলা করেছিলেন। ঐ মামলার এজাহারে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর নলবুনিয়া ইব্রাহীমের শ্বশুরবাড়ি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। যা প্রসিকিউশনের আনিত অভিযোগের সম্পূর্ণ বিপরীত।

মামলার আসামি অথবা পরিকল্পনাকারী হিসেবে মামলার এজহারের কোথাও দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম নেই। পিরোজপুর থানায় ৯ নম্বর মামলা হিসাবে রেকর্ড হয়েছিল। ঐ মামলায় অন্তত ৪ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটেছেন। পিরোজপুর আদালত থেকে মামলাটি ১৯৮১ সালে বরিশালের আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল বলে সেখানকার আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে সেই মামলার পরবর্তী নথিপত্র খুঁজতে বরিশাল এসেছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগেরদিন তিনি পিরোজপুরের আদালতে গিয়েও নথিটি বরিশালের আদালতে প্রেরণের তথ্য প্রমাণ পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আদালতের একাধিক আইনজীবী জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা জজের সেশন কক্ষে কয়েক দফা দেখা গেছে এ্যাটর্নি জেনারেলকে। নথি না পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথি গায়েব হয়ে যাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশও করেন এ্যাটর্নি জেনারেল।

যদিও মাওলানা সাঈদীর পক্ষের আইনজীবীগণ মমতাজ বেগমের করা মামলার এজাহারের সার্টিফাইড কপি বহু আগে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছিলেন।

এ্যাটর্নি জেনারেলের বরিশাল সফরের বিষয়ে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন কাবুল জানান, মামলার তথ্যের কাজে এ্যাটর্নি জেনারেল এসেছেন। তবে কোন মামলার তথ্য সে বিষয়ে এ্যাটর্নি জেনারেলই ভালো বলতে পারবেন বলে কাবুল জানান। এ ব্যাপারে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, তিনি বরিশালে এসেছেন মামলার তথ্যের কাজে। কোন তথ্য তা জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। ঐ তথ্য পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। আর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। তবে বরিশাল ও পিরোজপুরের আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, সাঈদীর মামলার তথ্য খুঁজতেই এ্যাটর্নি জেনারেল এসেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here