ফেনী ৩ আসনে বিএনপিতে চরম কোন্দল এমপি মোশাররফের অগ্নি পরীক্ষা

27

নুর মোহাম্মদঃ
জনতার নিউজঃlog5

ফেনী ৩ আসনের দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে দির্ঘদিন পর এসে চরম তোপের মুখে পড়েছেন স্থানীয় এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন। ইতোমধ্যে দাগনভূঞার রাজাপুরে তার সমাবেশের প্যান্ডেল ও চেয়ার ভাংচুর হয়েছে। স্থানীয় প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি তিনি। অপরদিকে সোনাগাজীতেও তার ঈদ পূণর্মিলনী সমাবেশের আগে মিছিল করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ, বিএনপি ও আওয়ামীলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩০/৩২ জন আহত হয়েছে। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিসও ভাংচুর করা হয়েছে বলে দলের নেতারা অভিযোগ করেন। সব মিলিয়ে ফেনী ৩ আসনের দুই উপজেলায় একরকম অগ্নি পরিক্ষায় পড়েছেন এমপি মোশাররফ হোসেন। দলীয় সূত্র জানায়, বিগত সংসদ নির্বাচনে ফেনী ৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন মোশাররফ হোসেন। কিন্তু সেসময় দুই উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী অংশ তথা মোশাররফ বিরোধীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাঈদ হোসেন চৌধুরির পক্ষে অবস্থান নেন। দলীয় সূত্রমতে, গত কয়েক বছরে এমপির সাথে উপজেলা নেতাদের দূরত্ব নানা কারণে বেড়ে গেছে। এলাকার প্রতি তার উদাসীনতা ও শারিরীক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে এলাকা থেকে অনেক দূরে অবস্থান ছিল তার। বিশেষ করে দাগনভূঞার সাথে তার যোগাযোগ ছিল খুবই কম। দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আকবর হোসেন, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টুসহ দলের এক বিশাল অংশ তার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে এবার এদের সামলে তার নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকা আরো কঠিন হবে বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন। গত শুক্রবার বিকালে দাগনভূঞার রাজাপুর স্কুল মাঠে এক ঈদ পূনর্মিলনী সমাবেশ ডাকেন এমপি মোশাররফ হোসেন। কিন্তু কে বা কারা হামলা চালিয়ে প্যান্ডেল ও শতাধিক চেয়ার ভাংচুর করে। ফলে সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়। পরদিন শনিবার দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে এমপি’র থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে দলের বিদ্রোহী অংশের নেতাকর্মীরা ফাজিলের ঘাট রোডে অবস্থান নেয়ায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশংকায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। একইদিন সোনাগাজীর শহীদ ছাবের পাইলট হাই স্কুল মাঠে এমপির অনুষ্ঠানের আগে মিছিল করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩০/৩২ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বিএনপির মোশাররফপন্থী অংশের ১৭৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। এদিকে সেদিন উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিসে হামলার অভিযোগ এনে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আওয়ামীলীগ। সেদিন ফেনী এসে রবিবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকে আবার রাতে প্রত্যাহার করে ঢাকায় চলে যান তিনি। এ নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। দলের একাধিক নেতা জানান, ১৯৯৬ সালে পর থেকে এ পর্যন্ত ফেনী ৩ আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে মোশাররফের কোন বিকল্প ছিলনা। কিন্তু এবার আরো কয়েকজন নেতা ফেনী ৩ আসনে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দিন। গত নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাঈদ চৌধুরিও খালেদা, তারেকের ছবিযুক্ত ব্যানার পোষ্টার ঝুলিয়ে ফেনী ৩ আসনে গনসংযোগ করছেন। সব মিলিয়ে এবার মোশাররফ এমপিকে কঠিন পরিক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here