প্রেসক্লাবে দিনভর উত্তাপ, বিকালে মারধর

12

press Clubnews

৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীর মধ্যে সোমবার সারাদিনই উত্তপ্ত ছিল জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত সাংবাদিক এবং কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠন সেখানে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সরকার সমর্থকদের মিছিল-সমাবেশের বিপরীতে পাল্টা সমাবেশ করে বিরোধী পক্ষ। এরমধ্যে বিকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পথে বাধা দেয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের বাইরে সরকার সমর্থকদের অবস্থান এবং ভিতরে মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাংবাদিক নেতারা অবস্থান করছিলেন।

বিকালে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপনে’ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের (আওয়ামী লীগ সমর্থিত) নেতারা। দুই সংগঠনের নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন। একই সময় ‘গণতন্ত্র ও কালো দিবস পালন উপলক্ষে’ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি সমর্থিত ‘সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ’। এ সমাবেশে বহিরগতরাও অংশ নেয়। বিকাল তিনটার দিকে পেশাজীবি পরিষদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশের পর সাড়ে তিনটার দিকে ফখরুল, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানসহ কয়েকজন প্রেসক্লাবের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে ও গেটের বাইরে অবস্থানরত সরকার সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ ও ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। কয়েকজন ইট-পাটকেল ছুড়েন। তখন ফখরুলসহ বিরোধী দলের নেতারা আবার প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি অংশ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অবস্থানরত বিএনপি সমর্থকদের ধাওয়া দেন। মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের ব্যাজপরিহিত একটি দল ‘ধরধর, মারমার’ বলে চিৎকার দিয়ে মারপিটে জড়ান। দুইপক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

প্রায় ১৫-২০ মিনিটব্যাপী সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলসহ সরকার সমর্থক সাংবাদিক নেতারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ইকবাল সোবহান বলেন, প্রেসক্লাব শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্থান। এখানে রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করতে যারা এসেছেন, তাদের চলে যেতে অনুরোধ করছি। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষকে বলছি, আপনারা অবিলম্বে রাজনৈতিক নেতাদের বের করে দিন। অন্যথায় আমরা সারারাত বাইরে অবস্থান করব। মঞ্জুরুল আহসান বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এখানে প্রেস ব্রিফিং করতে পারেন। তবে তার নেতৃত্বে শতশত দলীয় কর্মী প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা করতে পারেন না। বহিরাগতরা প্রেসক্লাবে থাকতে পারেন না। বিএফইউজের বিএনপি সমর্থিত অংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের সমাবেশে এলে আওয়ামী সমর্থিত প্রজন্মলীগের লোকজন এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা প্রেস ক্লাবের দেয়াল টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। লাঠিসোটা নিয়ে ভিতরে এসে হামলা করে। এ হামলায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংঘর্ষের পর বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিএফইজে ও ডিইউজের একাংশ এবং বিএনপি সমর্থিক বিএফইউজে ও ডিইউজে এবং প্রেসক্লাবের নেতারা আলোচনা বসেন।

এর আগে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এবং খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে তালা মেরে সরকার প্রমান করেছে তারা গণতান্ত্রিক ও জনগণের আকাঙ্খা ধারণকারী সরকার নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। গণতন্ত্রের বাস্তব রুপ দিতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এই সরকার ভোটের সরকার নয়। এক বছর আমরা অপেক্ষা করেছি। আজ প্রতিটি মানুষ মুক্তি চাচ্ছে।
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে “লাথি মার ভাঙরে তালা, যত সব বন্দিশালায় আগুন জ্বালা’ উদ্ধৃত করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের মুখোশ পরে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছে। জনগণের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে সরকারের পেটোয়াবাহিনী। তারা প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। আমাদের সামনের পথ কঠিন। যাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি তারা সত্যিকার অর্থেই ফ্যাসিস্ট সরকার। এই কারাগার আমাদের ভেঙ্গে ফেলতে হবে। বেরিয়ে আসতে হবে কারাগার থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here