প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ করা হয় সাইফুলকে এক নারীসহ গ্রেফতার তিন

35

newনারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অপহরণ ঘটনায় পুলিশ এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুর্বৃত্তরা ব্যবসায়ী সাইফুলকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। এ দিকে গতকাল শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- নূরজাহান, তার স্বামী ফকির ইউনুস মিয়া এবং বিকাশ এজেন্ট ও মূল পরিকল্পনাকারী মো. আকাশ।

ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে সানারপাড় এলাকা থেকে অপহূত হন। আর অপহরণের ২৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার মধ্যরাতে সাভার নবীনগর এলাকায় অপহরণকারীরা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। পরে র্যাব-৪-এর একটি টিম তাকে উদ্ধার করে। রাতেই র্যাবের গাড়িতে করে সানারপাড়ের বাসায় ফেরেন সাইফুল।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, সাইফুল ইসলামকে অপহরণ করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল। পুলিশ এ খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায়। অপহরণকারীরা পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে সাইফুল ইসলামকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে নবীনগর এলাকায় ফেলে যায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ বলেন, সাইফুল ইসলাম অপহরণের ঘটনায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও অপহরণকারীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় নূরজাহান ও তার স্বামী ফকির ইউনুস ফকিরকে। তার দেয়া তথ্য মতে গতকাল শনিবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাদের সহযোগী বিকাশের এজেন্ট আকাশকে। অপহূতের পরিবার কোন মোবাইল নম্বরে কত টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেবে, তা ঠিক করে অপহরণের পুরো পরিকল্পনা করেছিল আকাশ।

পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে- তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের অপর সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) রাতে নূরজাহান বেগমই ব্যবসায়ী সাইফুলকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। এরপর তার সহযোগীরা সাইফুলকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের সবার বাসা যাত্রাবাড়ি শনির আখড়া এলাকায়। এরমধ্যে নূরজাহান সাইফুলের পূর্ব পরিচিত। সে কৌশলে সাইফুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে; কিন্তু সাইফুল সহজেই তার ফাঁদে পায় দেয়। অপহরণের কিছু আগে নূরজাহানই সাইফুলকে ঘটনাস্থলে (সানারপাড় বাসস্ট্যান্ডে) ডেকে এনেছিল। তার উপস্থিতেই অপহরণকারীরা সাইফুলকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুন মতিন বলেন, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে উদ্ধারের পর শুক্রবার রাতেই তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে সাইফুল ইসলামকে তার সানারপাড়ের বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুলের দোকান ম্যানেজার আব্দুল হান্নানকে আনা হয়েছিল। সাইফুল ইসলামের স্ত্রীর কথামত ঐ দিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অপর দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত নূরজাহান ও তার স্বামী ফকির ইউসুফ মিয়াকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ রবিবার তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আফরিন সুলতানার দায়েরকৃত সাধারণ ডায়রি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় সোনামিয়া মার্কেটের মেসার্স সামিয়া সুপার স্টোর নামে একটি ডিপার্টমেন্টার স্টোরের মালিক সাইফুল ইসলাম। তার পিতার নাম আব্দুল মজিদ। বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণের পর রাত ২টা ২৭ মিনিটে অপহরণকারীরা সাইফুলের ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরের দিন শুক্রবার অপহরণের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা দুই দফায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here