প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জরিপকারীদের কোনো ধারণাই নেই কিভাবে জরিপ চালাতে হয়।জয়

24

joyযুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক জরিপের প্রসঙ্গ ধরে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্টেটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও আইটি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়। ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষায় দেওয়া এই জরিপে তিনি এ জরিপের আগের বিভিন্ন জরিপের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। জয় লিখেছেন, ‘নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ করে গণমাধ্যম কর্তৃক পরিচালিত জরিপগুলো। বিশেষ করে আমি বাংলাদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার জরিপের কথা উল্লেখ করতে চাই, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। দুটি পত্রিকার জরিপেই দেখা গেছে বিএনপি ৫০-৫৫% ভোট পাবে এবং আওয়ামী লীগ পাবে ২৫-৩০% ভোট। জরিপগুলো যে শুধু সামান্য ত্রুটিযুক্ত ছিল তা বলা যাবে না, এগুলো ছিল মারাত্মক ধরনের ভুল।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘কিছু ঐতিহাসিক সত্যকেও তারা উপেক্ষা করেছে। আওয়ামী লীগ সব সময়ই ৩০% -এর বেশি ভোট পেয়ে এসেছে, পক্ষান্তরে বিএনপি কখনোই ৪০%-এর বেশি ভোট পায়নি। আসলে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা ৪০%-এর বেশি ভোট পেয়েছে। কোনো দলই এখন পর্যন্ত ৫০% ভোট পায়নি, কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রায় ৪৯% ভোট পেয়েছে। শুধু এই বিষয়গুলোই দেখিয়ে দেয়, তাদের জরিপগুলো সঠিক হতে পারে না।’
জয় আরো লিখেছেন, ‘বস্তুত, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জরিপকারীদের কোনো ধারণাই নেই কিভাবে জরিপ চালাতে হয়।’
সজীব ওয়াজেদ জয়ের পূর্ণাঙ্গ স্টেটাসটির বাংলা অংশ নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো :
ইউএসএইড ও ডিএফআইডি-এর অর্থায়নে, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল(ডিআই ) কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন পরবর্তী জরিপে দেখা গেছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি-জামাত অংশ নিলেও কমপক্ষে ৫.৮% ব্যবধানে আওয়ামী লীগ জয়ী হতো। ১১ থেকে ১৫ জানুয়ারির ভেতরে রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সারা দেশের ২৫৪৪ জন নাগরিকের উপরে এ জরিপ চালানো হয়। ৪২.৭% বলেছেন, তারা আওয়ামীলীগকে ভোট দিতেন এবং আরো ০.১% ভোট দিতেন আমাদের মহাজোটকে। অন্যদিকে ৩৫.১% বলেছেন, তারা বিএনপিকে ভোট দিতেন, ১.৬% জামায়াতে ইসলামকে এবং ০.৩% চার দলীয় জোটকে।
http://bangla.bdnews24.com/politics/article738533.bdnews
নির্বাচনের আগে পরিচালিত সকল জরিপ এই জরিপটির সাথে সাংঘর্ষিক, কেবল দু’টি ছাড়া; ৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ও ডিআই এর যৌথ উদ্যোগে সঠিকভাবে পরিচালিত একটি জরিপের কথা আমি আমার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিলাম, যেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষে ৩৯.৬% এবং বিএনপির পক্ষে ৩৪.২% মতামত পাওয়া গিয়েছিল। নভেম্বরে আওয়ামী লীগের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত নমুনা জরিপে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের পক্ষে মতামত এসেছে ৩৮% এবং বিএনপির পক্ষে ৩৬%। জরিপটির ফলাফল আমরা প্রচার করিনি।
https://www.facebook.com/sajeeb.a.wazed/posts/379208475548915
যে ১৪৭টি আসনে ভোট গৃহীত হয়েছে সেখানকার ৪০.৭% ভোটার উপস্থিতির সত্যতা এই একই জরিপ থেকেই প্রমাণিত হয়। নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল হিসাবে এটা ৩৯.৮%।
জরিপে ১০.৩% অংশগ্রহণকারী কাকে ভোট দিতেন তা গোপন রাখতে চেয়েছেন এবং ৫.১% তখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তবে এই উপাত্ত থেকেই আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেরিয়ে আসে। যে ১৪৭ টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানকার ভোটারদের ১২% জানিয়েছেন, তারা ভোট দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় দিতে পারেননি।
নির্বাচনের দিনে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উপরে আক্রমণ এবং কয়েক শত ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে। এর মানে, যদি বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না চালাতো তাহলে তাদের নির্বাচন বর্জন সত্ত্বেও ৫২% ভোট গৃহীত হতো।
এই অতিরিক্ত ১২% ভোট বিএনপি-জামাতের নয়, কেননা তারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। জরিপে মাত্র ৪.৪% জানিয়েছেন তারা জাতীয় পার্টি, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট দিতেন। ১২% এর ৪.৪% মানে মাত্র ০.৫%। বাকি ১১.৫% বেশীরভাগ ভোটই আওয়ামীলীগের ঘরেই জমা পড়ত। এই জরিপ থেকে পরিষ্কারভাবেই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, বিএনপি-জামাত নির্বাচনে আসুক বা না আসুক, আওয়ামীলীগ মোট ভোটের ৪২.৭% থেকে ৫৪.২% ভোট পেত।
আমি বিশেষ ভাবে দু’টি মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, যারা এই নির্বাচন সম্পর্কে ভয়াবহ ধরনের অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। কিছু পশ্চিমা দূতাবাস ও কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, ভোটার উপস্থিতি সর্বনিম্ন ২০% এবং সর্বোচ্চ ৩০% বড়জোর। কোন রকম গণনা ছাড়াই গুজব এবং অনুমানের উপর ভিত্তি করে তারা এ দাবি করেছে।
এমনকী আরো দৃষ্টিকটু ভাবে, কোন প্রমাণ ছাড়াই এই মহলগুলোর কেউ কেউ দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেখিয়েছে, আওয়ামীলীগের কর্মীরা জাল ভোট দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থা কর্তৃক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে পরিচালিত এই জরিপটিই নিখুঁত ভাবে নির্বাচন কমিশনের ভোটার উপস্থিতির হিসাবকে সমর্থন করে।
যেসব পশ্চিমা কূটনীতিক ও গণমাধ্যম এই মিথ্যা অভিযোগগুলো তুলেছে। তাদের উচিত নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ ও দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। ভুল ও অসত্য বক্তব্যগুলো তারা খুব দ্রুততার সঙ্গেই দিয়েছিল, কাজেই আগের সেই বক্তব্যগুলো যে ভুল ছিল সেটা স্বীকার করে নেওয়ার ভদ্রতাটুকু অন্তত তাদের থাকা উচিত। অন্যথায় এটাই প্রমাণিত হবে যে তারা পরিকল্পিতভাবেই আমাদের নির্বাচনকে কালিমালিপ্ত করতে চেয়েছিল।
আরেকটি বিষয়ে আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, সেটা হলো নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ করে গণমাধ্যম কর্তৃক পরিচালিত জরিপগুলো। বিশেষ করে আমি বাংলাদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার জরিপের কথা উল্লেখ করতে চাই, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। দুটি পত্রিকার জরিপেই দেখা গেছে বিএনপি ৫০-৫৫% ভোট পাবে এবং আওয়ামী লীগ পাবে ২৫-৩০% ভোট। জরিপগুলো যে শুধু সামান্য ত্রুটিযুক্ত ছিল তা বলা যাবে না, এগুলো ছিল মারাত্মক ধরনের ভুল।
কিছু ঐতিহাসিক সত্যকেও তারা উপেক্ষা করেছে। আওয়ামী লীগ সব সময়ই ৩০%-এর বেশি ভোট পেয়ে এসেছে, পক্ষান্তরে বিএনপি কখনোই ৪০%-এর বেশি ভোট পায়নি। আসলে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা ৪০%-এর বেশি ভোট পেয়েছে। কোনো দলই এখন পর্যন্ত ৫০% ভোট পায়নি, কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রায় ৪৯% ভোট পেয়েছে। শুধু এ বিষয়গুলোই দেখিয়ে দেয়, তাদের জরিপগুলো সঠিক হতে পারে না।
বস্তুত, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের জরিপকারীদের কোনো ধারণাই নেই কিভাবে জরিপ চালাতে হয়। অথবা, তারা পরিকল্পিত ভাবেই জরিপের ফলাফল ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছে, কারণ তারা বারবারই নির্বাচন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। এ ধরনের জরিপগুলো জনমনে প্রভাব ফেলে, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচন এবং অবশ্যই গণতন্ত্রের উপর পড়ে, কাজেই এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here