প্যাডসর্বস্ব দল নিয়ে এরশাদের বিশাল জোট জোটে ৫৬, ৫৮, ৫৯ না ৬৭ দল কেউ জানে না

33

জনতার নিউজঃ

৫৮ দল নিয়ে এরশাদের নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ

সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউএনএ) নামের একটি জোট গঠন করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। এই জোটে মোট ৫৮টি দল রয়েছে। জোটের চেয়ারম্যান হয়েছেন এরশাদ।

অফিস নেই, ঠিকানা নেই, দলের নাম ও নেতাদেরও কেউ চেনেন না-এরকম প্যাডসর্বস্ব অর্ধশতাধিক দল নিয়ে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ (ইউএনএ) নামে নতুন জোটের ঘোষণা দিলেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত।

 

মূলত দুটি দল ও দুটি পৃথক জোটের সমন্বয়ে ‘ইউএনএ’ গঠন করা হয়েছে। যাতে নিবন্ধিত দল মাত্র দুটি- জাপা ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। এর বাইরে থাকা দুটি জোট হলো- ‘জাতীয় ইসলামী                 মহাজোট’ ও ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)’। এই দুটি জোটে দল আছে ৫৫ থেকে ৬০টির মতো, এর সবগুলোই অনিবন্ধিত। ঘোষিত জোট ‘ইউএনএ’-তে সবমিলিয়ে ঠিক কতটি দল আছে সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬৭-এরকম একাধিক সংখ্যার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জাপার দায়িত্বশীল নেতাদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন, সর্বমোট দল ৫৬ থেকে ৫৮টির মতো হবে। সংখ্যার বিচারে এটি এখন দেশের সবচেয়ে ‘বড়’ রাজনৈতিক জোট। উল্লেখ্য, দেশে এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ এবং বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট রয়েছে।

অনুমানের উপর ভর করে জাপার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ‘ইউএনএ’র শরিক জাতীয় ইসলামী মহাজোটে আছে ৩৪টি ইসলামি দল আর বিএনএ-তে রয়েছে ২২টি দল। জাপার পাশাপাশি এরশাদ নতুন এই জোটেরও চেয়ারম্যান। জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগে ৩৪টি ইসলামপন্থি সংগঠন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘জাতীয় ইসলামী মহাজোট’। ২০১৫ সালে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে বিএনএ, পরে তাকেই অব্যাহতি দিয়ে সেকান্দার আলী বিএনএ’র নেতৃত্ব নেন।

নতুন জোটের ঘোষণা দিয়ে ‘ইউএনএ’ চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শের দিক থেকে আমরা সবাই স্বাধীনতার চেতনা, ইসলামি মূল্যবোধ তথা সব ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আদর্শের অনুসারী এবং ধারক-বাহক। আমাদের অঙ্গীকার আছে, এই জোটে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির জায়গা হবে না। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এই জোট।

এরশাদ বলেন, জোট গঠনের জন্য দু’ভাবে জোটের শরিক নির্বাচনের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত তারা সরাসরি জোটের শরিক হিসেবে থাকবে। যেসব দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে বা কিংবা নিবন্ধিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে, তাদের সমন্বয়ে মোর্চা বা জোট গঠন করে সেই জোটকে শরিক হিসেবে বৃহত্তর জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাপার পক্ষে তিনি (এরশাদ), ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ ও বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী নতুন  জোটের ঘোষণাপত্রে সই করেন।

এরশাদ আরো বলেন, জোটগতভাবে জাতীয় ও সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সরকার গঠন এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করা এ জোটের উদ্দেশ্য। জোটের অন্তর্ভুক্ত দলের ক্ষেত্রে যে কোনো নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি উন্মুক্ত থাকবে।

জোটের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এই জোট নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেবে। ফল যা-ই হোক না কেন, জোট বহাল থাকবে। জোটের স্থায়ীত্বের জন্য রাজনৈতিক বিপদে-আপদে, সুদিনে-দুর্দিনে শরিকরা একে-অপরের পাশে থাকবে। স্বার্থের কারণে কোনো দল জোট ছেড়ে যাবে না- এই অঙ্গীকার থাকবে।

জাপা চেয়ারম্যানের দাবি, জোটের বাইরে থাকা আরো দুটি নিবন্ধিত দলের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তারাও জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নতুন এই জোটের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় ব্যাপক শোডাউন করেন ঢাকা-৪ আসনের জাপা দলীয় এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here