পুলিশ পাহারায় দূরপাল্লার বাস চলাচল, যাত্রী কম

25

Vehicleআঠারো দলীয় জোটের ডাকা পঞ্চম দফা অবরোধের প্রথম দিন গতকাল শনিবার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পুলিশ পাহারায় কয়েকটি বাস জামালপুর, ময়মনসিংহের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। তবে এসব বাসে যাত্রী ছিল কম। একই ভাবে ঢাকা-আরিচা সড়কে পুলিশ পাহারায় বেশ কিছু ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করে। অন্যদিকে ঢাকা-মাওয়া রুটে যানচলাচলের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। অন্যান্য অবরোধের সময় থেকে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে আঞ্চলিক সড়কে যানচলাচলের সংখ্যা বেড়েছে।

গত বুধবার নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহানখান হরতাল বা অবরোধ থাকলেও সরকারের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শুক্রবার থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকা থেকে পুলিশ পাহারায় ( ৬টি রুটে) ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ফরিদপুর, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-আরিচায় যান চলাচল করেছে।

ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ ছদু জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও যাত্রীরা বাস টার্মিনালে এলে আমরা বাস চালাবো। নিরাপত্তা নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান জানান, পুলিশ পাহারায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামে দূরপাল্ল¬ার বাস চলেনি। গতকাল নগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে গিয়ে বাস ও কোচগুলোকে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীবিহীন টার্মিনালে বাসের চালক ও হেলপারদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে ছোট আকারের গণপরিবহন চলাচল আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি নগরীতে ব্যাপক গণপরিবহন চলাচল করছে।

চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমদ  বলেন, বাস চালানোর জন্য নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়ার কথা যোগাযোগ মন্ত্রীর। নৌমন্ত্রীর আশ্বাসে ভরসা রাখা যায় না। কারণ সরকারের পক্ষে আমাদের কতটুকু নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব, গত কয়েক মাসে জনগণ তা দেখেছেন। তিনি বলেন, কয়েক মাসে সারা দেশে হাজার হাজার যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যারা ব্যাংক ঋণের টাকায় গাড়ি কিনে রাস্তায় নামিয়েছেন তাদের এখন পথে বসার অবস্থা। অবরোধের জন্য তারা ব্যাংকের কিস্তির টাকাও দিতে পারছেন না।

কুমিল্লা কেন্দ্রটির উদ্দেশ্যে কোন যানবাহন ছেড়ে যায়নি। তবে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে যানচলাচলের সংখ্যা বাড়লেও পুলিশের কোন পাহারা লক্ষ্য করা যায়নি। এছাড়া নগরীর ধর্মপুর এলাকার বিআরটিসি বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি কোন বাস। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের উপকূল সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক কবির আহম্মেদ জানান, ‘সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আমাদের এ সার্ভিসের কোন গাড়ি নাশকতা কবলিত হওয়ার আশংকায় স্টেশন ছেড়ে যায়নি।’

কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী মনসুর ফারুক জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার দূরপাল্লার গাড়ি মহাসড়কে বের করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। আমরা ঐ বৈঠকে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম।

এছাড়া মহাসড়কে প্রায়ই নাশকতার ঘটনা ঘটছে। তাই চালক-হেলপাররা গাড়ির ক্ষতি ও প্রাণভয়ে সড়কে গাড়ি নিয়ে বের হতে চায় না। ফলে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

শিবালয় সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিশেষ করে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন কোচ, বাস বা ট্রাক ছেড়ে যায়নি। তবে অবরোধ শুরুর আগে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরি পার হয়ে আসা বিপুলসংখ্যক ট্রাক ও অন্যান্য গাড়ি কড়া পুলিশ প্রহরায় ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে এগিয়ে যায়।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি  জানান, গতকাল সচল ছিল ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস চলাচল করেছে। মহাসড়কে পুলিশি টহল থাকায় বিআরটিসিসহ সব ধরনের যান চলছে নির্বিঘ্নে। পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, মহাসড়ক দু’টিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। যে যানই এসেছে সেগুলোকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। তাই অন্য অবরোধের চেয়ে মহাসড়কে যানবাহন ছিল বেশি।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ খালেদ জানান, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান খান জানান, সহিংস রাজনীতির এই সময়ে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আমরা যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছি। যদিও এতে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ হওয়াসহ পরিবহন মালিক শ্রমিকরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। উত্তরবঙ্গ থেকেও যমুনা সেতু হয়ে টাঙ্গাইলের উপর দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি  জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গতকাল পুলিশি পাহারায় ঢাকা থেকে ১টি এনা, ১টি শামীম এন্টারপ্রাইজ, ৩টি রাজিব, ৪টি আলম এশিয়া পরিবহনসহ মোট ১৪টি গাড়ী ছেড়ে আসে। ঢাকা থেকে আসার সময় বাসে যাত্রী থাকলেও যাওয়ার সময় এনা পরিবহন ১৫/২০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদেশ্যে রওনা দেয়। যাত্রীদের মধ্যে আতংক ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই তারা চলাচল করছে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি  জানান, যাত্রী না থাকায় সরকারের ঘোষণার পরেও ফরিদপুর ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোন বাস। তবে ফরিদপুর-মাগুড়া, ফরিদপুর-রাজবাড়ী, ফরিদপুর-দৌলতদিয়া, ফরিদপুর-মাদারীপুর এবং জেলার আঞ্চলিক রুটগুলোতে বাস চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

ফরিদপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, পুলিশের ৮টি টিম পরিবহন সেক্টরে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মালবাহী বা যাত্রীবাহী যে কোন ধরনের পরিবহন ফরিদপুর অঞ্চলের মহাসড়কে নিরাপত্তা বিধান করবে এই টিম। দূরপাল্লার পরিবহন না ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি পরিবহন মালিক ও সমিতির ব্যাপার। তবে পরিবহন ছাড়লে শতভাগ নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here