পালালো অবরোধকারীরা পুলিশ পাহারায় চললো বিপুল মালবাহী গাড়ি

17
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ

অবরোধ কর্মসূচি পালনের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী মালবাহী গাড়ি আগুনে পোড়াতে এসে পুলিশ দেখে পালিয়ে যায় অবরোধকারীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়কের কয়েকটি  স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, অবরোধকারীদের সকল প্রকার নাশকতার চেষ্টা ঠেকিয়ে গতকাল শনিবার দিনভর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধকারীরা একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করতে পারেনি। এমনকি চালাতে পারেনি কোনো রকম ভাঙচুরও।
বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই মো. ওমর ফারুক জানান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট শনিবার থেকে ৭২ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। ফলে এই অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশ পাহারায় মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা পুলিশ সুপার। এ জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে এক হাজারেও বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ। নগর থেকে ছাড়া ঢাকাগামী সকল মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচলে পাহারা দেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় অবরোধকারীরা যেখানেই মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটক করে আগুন দিতে আসে সেখানেই পুলিশ দেখে পালিয়ে যায়।’
তিনি জানান, গতকাল শনিবার ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীর একে খান, ইস্পাহানি মোড়, ফৌজদারহাট, সিটি গেইট, সীতাকুণ্ড উপজেলার ফকিরহাট, আমিরাবাদ, ছোট কুমিরা, বড় কুমিরাসহ মিরসরাই উপজেলার কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীরা মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটক করে আগুন দিতে চেয়েছিল কিন’ পুলিশ অ্যাকশনে যাওয়ায় অবরোধকারীরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, নগরীর বন্দর এলাকা থেকে ভোরের দিকে একটি বা দু’টি করে মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান কয়েক ধাপে ছাড়ার পর মিরসরাই অতিক্রম করা পর্যন্ত পাহারা দেয়া হয়। পুলিশ দেখে অবরোধকারীরা পালিয়ে যাওয়া শুরু করার পর ৫ থেকে ৬টি করে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ধাপে ধাপে মিরসরাই পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়।
নগর ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পুলিশ পাহারায় ভোর থেকে মালভর্তি ট্রাক ছাড়া হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১৯০টি মালভর্তি ট্রাক ঢাকার দিকে রওনা দেয়। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারেনি অবরোধকারীরা।’
তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবর থেকে ১৮ দলীয় জোটের ডাকে তিন দফা হরতাল ও তিন দফা অবরোধে নগরীর একে খান থেকে মিরসরাই পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধকারীরা। ভাঙচুর করে দুইশয়েরও বেশি গাড়ি। এতে কোটি টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়। ক্ষতির শিকার হয় ট্রাকচালক ও মালিকরা।
এবারের অবরোধে পুলিশ পাহারায় মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালানোর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গত দেড় মাসের হরতাল ও অবরোধে এ উদ্যোগ নেয়া হলে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালক, মালিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতি থেকে বেঁচে যেত।’
চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক মাহফুজুল হক বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আন্দোলনের নামে হরতাল ও অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারকীয় তাণ্ডব ও নৈরাজ্য চালায়। এতে মালবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ব্যবসায়ী ও চালকরা। ফলে প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয় ব্যবসায়ীরা।’
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচলে চেস্বার অফ কমার্স সরকারের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দেয়। ফলে সরকারের নির্দেশে জেলা পুলিশ সুপার এবারের অবরোধে পুলিশ প্রহরায় মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচলের উদ্যোগ নেন। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে মেসেজ দেয়ার পর পণ্য পরিবহনের প্রস’তি নেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের পাহারায় গতকাল শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল করে। এ কাজে সফল হয়েছে পুলিশ। অবরোধ চলা পর্যন্ত পুলিশ পাহারায় মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল অব্যাহত থাকবে।’
ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) নওশের আলী এ ব্যাপারে  বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ প্রহরায় গতকাল শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আড়াইশয়েরও বেশি মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ঢাকা অভিমুখে যেতে পেরেছে। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here