পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও করল গণজাগরণ মঞ্চ পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৮, আজ আবার ঘেরাও

11

G Moncho
গণজাগরণ মঞ্চের পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও হামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্রনেতাসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের অযাচিত ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মঞ্চের নেতা-কর্মীদের এবং শহীদ পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের গতকাল হাইকমিশন অবরোধও করতে দেয়নি পুলিশ।

পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত দেশটির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন এবং হামলার সাথে জড়িত পুলিশকে প্রত্যাহার করার দাবিতে ২০ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। দাবি বাস্তবায়নে আজ বৃহস্পতিবার বিকালে আবার পাকিস্তান হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরতরা।

এদিকে পুলিশি বাধা পেরিয়ে আন্দোলনরতদের একটি অংশ হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘৃণা প্রকাশ করে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কমিশন ভবনের দিকে জুতা ছুঁড়ে মারে। যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক গলানো এবং অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগে বিকালে গুলশান ২ নম্বর গোল চত্বর থেকে হাইকমিশন অভিমুখে মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। বিকাল ৩টার দিকে গুলশান-২ নম্বরে তাহের টাওয়ারের সামনে মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। তখন পাশেই সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় তাদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটায় কয়েকজন আহত হন।

এরপর বিক্ষুব্ধ কর্মীরাও পুলিশের বাধা পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আল-ফালাহ ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় দফায় মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। এরপর ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গণজাগরণ মঞ্চের একটি অংশের মিছিল কূটনৈতিক পাড়ায় ঢুকে পড়ে। এরপর অস্ট্রেলিয়ান স্কুলের সামনের সড়কে তাদের আবারো আটকানো হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন মিছিলকারীরা। পুলিশের সাথে কয়েকদফা ধাক্কাধাক্কিতে অন্তত আট জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী, মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, বিপ্লব, বিন্দু।

এদিকে বাধা পেরিয়ে মঞ্চের কর্মীদের একটি অংশ পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখানে কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এসে আন্দোলনরতদের সাথে কথা বলেন এবং তাদেরকে স্মারকলিপি দিতে বলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা এতে রাজি হননি। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে কয়েকজন হাইকমিশনের দিকে জুতা নিক্ষেপ করেন। পুলিশের অনুরোধে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন। পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং হামলার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অযাচিত আচরণ করেছে। এজন্য তাদের ক্ষমতা চাইতে হবে। আজ বিকালে আবারও হাইকমিশন ঘেরাও করা হবে।

ইমরান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান করছিলাম। পুলিশ অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।’

বিক্ষোভরত সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর বলেন, পাকিস্তানকে তাদের আনা প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে। ইমরান খানকে এদেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে। বিএনপির নিশ্চুপ ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

বিক্ষোভকারীদের অগ্রভাগে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর, অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ প্রমুখ।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বাধার ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বাধা কিংবা অবরোধ থেকে উঠিয়ে দেয়নি।

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী সেদেশের রাজপথে বিক্ষোভ করে। গত সোমবার ‘ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের’ একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট প্রস্তাবও পাস করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here