পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব, ঢাকার কড়া প্রতিবাদ

10

pakistan-high-commison
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডাকা হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আনা নিন্দা প্রস্তাব অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর বিরুদ্ধে কড়া ও জোরালো ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার মিয়া আফরাসিয়াব মেহেদী হাশমি কুরেশিকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্রসচিব দ্বিপক্ষীয় (কনস্যুলার ও প্রশিক্ষণ) মুস্তাফা কামালের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আনা নিন্দা প্রস্তাবের জের ধরে তাঁকে তলব করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান।

গত শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। এর পরও আমরা দেখছি, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিচারের কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বেড়ে গেছে।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাকিস্তান পর্যবেক্ষণ করছে, জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আশা করি বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণ সংহতির মূল্য বুঝবে এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ বিরাজ করবে।’

গতকাল সোমবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। পাকিস্তান জামায়াতের সাংসদ শের আকবর খান এই প্রস্তাব উত্থাপন করলে তাতে সমর্থন জানায় সরকারি দল মুসলিম লিগ। এ ছাড়া ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ, আওয়ামী মুসলিম লিগ, পাকিস্তান মুসলিম লিগ (কায়েদে আজম) ও জমিয়তে উলামা ইসলাম এই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়।

প্রস্তাবটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উচিত হবে না ৪২ বছর আগের পুরোনো ক্ষতকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা। এতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধসংক্রান্ত সব ধরনের মামলা ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র ভিত্তিতে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আনা এই প্রস্তাবে অবশ্য সমর্থন দেয়নি পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। পিপিপির সাংসদ আবদুল সাত্তার বাচানি পরিষদকে এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুরো বিষয়টিই বাংলাদেশের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের উচিত হবে না একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এ ধরনের প্রস্তাব পাস করা।’

পাকিস্তান শোধরায়নি, একাত্তরের নীতি থেকে সরেনি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here