পঞ্চম দফায় তারেক সাঈদ ৫ দিনের রিমান্ডে অভিযুক্ত ১৮ র‌্যাব সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি

12

জনতার নিউজঃ

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনায় জড়িত ১৮ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। র‌্যাব সদর দফতরে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির সামনে তাদের হাজির করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ।

র‌্যাব সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, যথাসময়ে অভিযুক্তদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির করা হবে।

এদিকে র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও তারেক সাঈদকে পঞ্চম দফায় রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আজ তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৫ দিন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে আইনজীবীরা সকল খুনিকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, র‌্যাব সাবেক কর্মকর্তা আরিফ হোসেন ও এম এম রানাই হত্যাকান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের নির্দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ১৮ জন সদস্য ওই অভিযানে অংশ নেয়। তারা সিনিয়র অফিসারদের নির্দেশ পালন করেন। এদের সবার নাম ও পদবি তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন আরিফ। ওই তালিকা ধরেই ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জনতার নিউজঃ বলেন, নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনাটি পুরোপুরো উদ্ঘাটিত হয়ে গেছে। এখন আসামিদের গ্রেফতার করলেই হল। তারা জানান, র‌্যাব সদর দফতরই প্রথম পুরো ঘটনাটি উদ্ঘাটন করে। তবে তারা তদন্তকারীদের কাছে কোন রিপোর্ট দেয়নি।

র‌্যাবের একটি সূত্র জনতার নিউজঃ কে জানায়, প্রশাসনের শীর্ষ মহলে তারা পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারেক সাঈদ, আরিফ ও রানা সদর দফতরকে অবহিত না করেই এই অপকর্ম করে।

এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত ১৬ ব্যক্তি ও তাদের মালিকানাধীন ১৩ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সকল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে রবিবার তথ্যচেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কোনো অ্যাকাউন্ট বা লকার পরিচালিত হয়ে থাকলে তার যাবতীয় তথ্য চিঠি পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা ও তার বেশি অঙ্কের লেনদেন হলে তার ভাউচারসহ বিবরণ পাঠাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এদের কেউ সঞ্চয়পত্র বা নগদে পে-অর্ডার কিনলে তার বিস্তারিত দলিলও বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠাতে বলা হয়েছে। অ্যাকাউন্টের তথ্য তলবের তালিকায় রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেন, তার স্ত্রী রুমা হুসাইন এবং তার মালিকানাধীন এসএ ট্রেডার্স ও সিনথিয়া মত্স্য হ্যাচারি। তার ভাই নূর উদ্দিন মিয়া ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিমরাইল ইন্টারন্যাশনালের অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া র্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদ মাহমুদ, এমএম রানা ও আরিফে ব্যাংক হিসাব চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া আরও যাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন মিয়া ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইয়াসিন ব্রাদার্স, হাসমত আলী ও তার মালিকানাধীন মেসার্স হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স, মো. ইকবাল হোসাইন ও তার মালিকানাধীন নিউ লিজান অ্যাসোসিয়েট, ইকবাল ট্রেডার্স ও মৌচাক টিম্বার অ্যান্ড স মিল, মো. হাসমত আলী, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন মেসার্স এস.এইচ. অ্যান্ড (জেভি) এবং হাজী হযরত আলী ও মো. হাসমত আলীর মালিকানাধীন মেসার্স এইচ.এইচ অ্যান্ড এইচ. জেভি। হযরত আলীর মালিকানাধীন আলী এন্টারপ্রাইজ, মো. শাহজালাল বাদলের মালিকানাধীন শাহজালাল ট্রেডার্স, কামাল হোসাইনের মালিকানাধীন মেসার্স তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ, আমিনুল হক ভূঁইয়ার মালিকানাধীন ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ, আবদুুল মতিনের ছেলে আরিফুল হক হাসান, নূরুল হকের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন, মীর নূর মোহাম্মদের ছেলে সিরাজ উদ-দৌলা, হাজী মুসলিম খানের ছেলে মাহবুব খান ও হাবিজুদ্দীন সরদারের ছেলে মো. আবদুুল মতিনের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তারেক ফের ৫ দিনের রিমান্ডে

আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদকে পঞ্চম দফায় ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিহত এডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে তারেক সাঈদকে গতকাল বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে পাঠানো হয়।

শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ইতোমধ্যে তারেকের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ায় আরিফ ও এম এম রানা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা জবানবন্দীতে সাত খুনের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

গতকাল বিকেল কঠোর নিরাপত্তায় তারেক সাঈদকে আদালতে নেয়া হয়।

শুনানির সময়ে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের এসআই আশরাফুজ্জামান বলেন, নূর হোসেনের টাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে র‌্যাব। ইতোমধ্যে আরিফ হোসেন ও এম এম রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্য আরো যাচাই বাছাই করতে ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। রিমান্ড শুনানির সময়ে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশ ও আইনজীবিরা বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here